ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাজনৈতিক দলের কোনো সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo রাজধানীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ঈদের দিনেও ঝোড়ো বৃষ্টির পূর্বাভাস Logo বিশ্বকাপ নয়, আমরা যুক্তরাষ্ট্র বয়কট করব : ইরান ফুটবল প্রধান Logo পদ্মা সেতুতে একদিনে টোল আদায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা Logo ফরিদপুরে প্রজন্ম বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কেন্দ্র করে আজও ২৬ ফ্লাইট বাতিল Logo ২১ ঘণ্টা পর উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক Logo লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা ইরানের Logo বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত Logo ঈদের দিন সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালসহ দুজন ভারতে গ্রেপ্তার

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। সীমান্তবর্তী বনগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই।

এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার (৯ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ শাখা বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পটুয়াখালীর বাসিন্দা রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) এবং ঢাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন (৩৪)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও হত্যাসহ গুরুতর অপরাধের পর তারা অবৈধভাবে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান শেষে পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৭ ও ৮ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রোববার (৯ মার্চ) তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পায়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, “ওরা আমাদেরকে এখনো অফিসিয়ালি কনফার্ম করেনি।” একই বিষয়ে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, “আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। এখন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।”

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর। সেদিন জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগ শেষে রিকশায় করে যাওয়ার সময় পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন।

গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর একই রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত হয়। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হাদি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছিলেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই তাকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ফয়সাল করিম মাসুদ সরাসরি গুলি চালান এবং তাকে সহযোগিতা করেন আলমগীর হোসেনসহ অন্যরা। হত্যাকাণ্ডের পর তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনৈতিক দলের কোনো সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালসহ দুজন ভারতে গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। সীমান্তবর্তী বনগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই।

এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার (৯ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ শাখা বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পটুয়াখালীর বাসিন্দা রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) এবং ঢাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন (৩৪)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও হত্যাসহ গুরুতর অপরাধের পর তারা অবৈধভাবে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান শেষে পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৭ ও ৮ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রোববার (৯ মার্চ) তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পায়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, “ওরা আমাদেরকে এখনো অফিসিয়ালি কনফার্ম করেনি।” একই বিষয়ে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, “আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। এখন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।”

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর। সেদিন জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগ শেষে রিকশায় করে যাওয়ার সময় পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন।

গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর একই রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত হয়। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হাদি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছিলেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই তাকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ফয়সাল করিম মাসুদ সরাসরি গুলি চালান এবং তাকে সহযোগিতা করেন আলমগীর হোসেনসহ অন্যরা। হত্যাকাণ্ডের পর তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।