ঢাকা , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাগরে হাজার হাজার কোরআন ফেলল মালয়েশিয়া! বেরিয়ে এলো যে চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo তেজগাঁও বিভাগের বিশেষ অভিযানে ৮০ জন অপরাধী গ্রেপ্তার Logo আদালতের মামলা কমাতে সরকার নিচ্ছে ধারাবাহিক উদ্যোগ, দ্রুত নিষ্পত্তির আশাবাদ Logo উৎপাদনে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি Logo নতুন ই-বাস ও ট্রাক আমদানিতে শুল্ক ছাড় দিতে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত Logo যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিতে হবে ‘অসম্ভব’ যুদ্ধ বা ‘অলাভজনক’ চুক্তির একটি: ইরানি গার্ড বাহিনী Logo রূপকথার দরজা খুলতে আরেকটু অপেক্ষা— ‘The Chronicles of Narnia’ পিছিয়ে গেলো Logo তৃণমূলের প্রতিভা তুলে আনা ও ক্রীড়া কূটনীতি জোরদারে কাজ করছে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo মুলতবি ৬৮ হাজার এনআইডি আবেদন দ্রুত শেষ করতে ইসির নির্দেশ Logo কুমিল্লায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার; উত্তেজনায় থানা ঘেরাও, বাস টার্মিনালে অবরোধ
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিতই সরকারের নীতি: প্রধানমন্ত্রী

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার সকালে বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বললেন, বর্তমান সরকার ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না এবং অতীতেও করেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের নীতি।

বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’, যা দেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও নৃগোষ্ঠীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। আপনারা কেউ নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমাদের সবার আমরা প্রত্যেকে বাংলাদেশি। শেষে প্রধানমন্ত্রী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আবারও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই দিনটি তাদের জীবনে আরও আনন্দময় ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠুক।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে বহু ধর্ম রয়েছে এবং প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের পথে আহ্বান করে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান ধর্মগুরু গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি প্রবর্তন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে-প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা বলা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। পাশাপাশি প্রেম, অহিংসা ও সর্বজীবে দয়ার শিক্ষা বৌদ্ধ ধর্মের মূল ভিত্তি।

‘এই নীতিগুলো শুধু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য নয়, বরং প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি নাগরিকরা যদি নিজ নিজ ধর্মীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেন, তবে একটি মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব’-উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও যোগ করেন, “সরকারের প্রধান দায়িত্ব ও অঙ্গীকার হলো এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণ করা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক নিজের ধর্মীয় রীতি-নীতি স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবেন। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যাতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।”

‘একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের, কে বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী এসব কোনো বিষয় ছিল না। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছি। তাই এই বাংলাদেশ সবার’-যোগ করেন তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়ুয়া। এসময় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুভেচ্ছা ক্রেস্ট ও বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাগরে হাজার হাজার কোরআন ফেলল মালয়েশিয়া! বেরিয়ে এলো যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিতই সরকারের নীতি: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার সকালে বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বললেন, বর্তমান সরকার ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না এবং অতীতেও করেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের নীতি।

বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’, যা দেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও নৃগোষ্ঠীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। আপনারা কেউ নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমাদের সবার আমরা প্রত্যেকে বাংলাদেশি। শেষে প্রধানমন্ত্রী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আবারও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই দিনটি তাদের জীবনে আরও আনন্দময় ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠুক।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে বহু ধর্ম রয়েছে এবং প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের পথে আহ্বান করে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান ধর্মগুরু গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি প্রবর্তন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে-প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা বলা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। পাশাপাশি প্রেম, অহিংসা ও সর্বজীবে দয়ার শিক্ষা বৌদ্ধ ধর্মের মূল ভিত্তি।

‘এই নীতিগুলো শুধু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য নয়, বরং প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি নাগরিকরা যদি নিজ নিজ ধর্মীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেন, তবে একটি মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব’-উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও যোগ করেন, “সরকারের প্রধান দায়িত্ব ও অঙ্গীকার হলো এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণ করা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক নিজের ধর্মীয় রীতি-নীতি স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবেন। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যাতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।”

‘একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের, কে বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী এসব কোনো বিষয় ছিল না। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছি। তাই এই বাংলাদেশ সবার’-যোগ করেন তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়ুয়া। এসময় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুভেচ্ছা ক্রেস্ট ও বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেওয়া হয়।