ঢাকা , বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১১ বছরের এক শিশুকে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ Logo রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অপরাধমুক্ত পরিবেশ গড়তে কাজ করছে পুলিশ Logo সিলেট জুড়ে এপ্রিল মাসে সড়কে ঝরল ১৫ প্রাণ Logo ইরান যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো রাশিয়ার তেল জাপানে পৌঁছেছে, এমন তথ্য দিয়েছে গণমাধ্যম Logo সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে খাগড়াছড়ির নারীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে পারেন Logo নয় মাসে পাট অধিদপ্তরের জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬ লাখ টাকা Logo খুলনাঞ্চলে এ মৌসুমে প্রায় ৫৬৩ কোটি টাকার আম বাণিজ্যের সম্ভাবনা Logo পুরো এক সপ্তাহ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ছাড়াই কাটিয়েছে দেশ Logo পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার Logo উপবৃত্তির তথ্য এন্ট্রি বিষয়ে কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশিকা প্রকাশিত
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

তিস্তা নদীভিত্তিক বৃহৎ প্রকল্প দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতে কেন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি, তা “সবাই বোঝে, শিশুও বোঝে” এবং এই দায় আর বহন করতে চান না তারা। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা রাখারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন। চীনের সহায়তায় আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকেই তিস্তা প্রকল্প ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন জামায়াত আমির।

শফিকুর রহমান বলেন, “তিস্তা প্রকল্প উত্তরাঞ্চলের কান্না, সারা বাংলাদেশের কান্না। আমরা এই কান্নার অবসান চাই। কিন্তু অতীতে কেন বাস্তবায়ন হয় নাই, এটা সবাই বুঝে, শিশুও বুঝে। আমরা ওই লিগ্যাসি আর বহন করতে চাই না।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই প্রকল্প বাস্তবায়নে শুধু সাপোর্ট নয়, কিছু করার থাকলেও তাও করবো। কারণ আমরা দেশের কল্যাণ চাই, মানুষের কল্যাণ চাই।”

তিস্তা প্রকল্পটি মূলত নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলার জন্য পরিকল্পিত। এর সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশের পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি জড়িত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এটি বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অতীতে চীনের অর্থায়নের প্রস্তাব এবং ভারতের আগ্রহ, দুই দিক থেকেই প্রকল্পটি গুরুত্ব পেয়েছে, তবে এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “চীন অবিরত বন্ধুর পরিচয় দিয়ে চলেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে তারা কখনো হস্তক্ষেপ করেনি।” তার ভাষায়, কিছু দেশ “কিছু না দিয়েই হস্তক্ষেপ করে”, কিন্তু চীন সেই পথে হাঁটে না।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭৬ সালে চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। “চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র পুরোপুরি চীনের উপহার। বাংলাদেশের একটি টাকাও নাই,” বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অতীতে এই ধরনের বন্ধুত্বের নিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ তোলেন জামায়াত আমির।

বিদেশনীতি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা সারা বিশ্বের সভ্য সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চাই। কিন্তু আমাদের ঘাড়ের ওপর কারও আধিপত্য মেনে নেব না।” তার মতে, দেশের তরুণ প্রজন্ম আত্মমর্যাদার সঙ্গে বিশ্বে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে চায় এবং কোনো ধরনের বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতে রাজি নয়।

অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ঈদুল ফিতর সামনে রেখে এই সহায়তা মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির একটি অংশ। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যতেও উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে এই মন্তব্য কেবল একটি অবকাঠামো প্রকল্পের সীমায় আটকে নেই, বরং এটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং উন্নয়ন অগ্রাধিকারের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১১ বছরের এক শিশুকে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

আপডেট সময় ১২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

তিস্তা নদীভিত্তিক বৃহৎ প্রকল্প দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতে কেন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি, তা “সবাই বোঝে, শিশুও বোঝে” এবং এই দায় আর বহন করতে চান না তারা। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা রাখারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন। চীনের সহায়তায় আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকেই তিস্তা প্রকল্প ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন জামায়াত আমির।

শফিকুর রহমান বলেন, “তিস্তা প্রকল্প উত্তরাঞ্চলের কান্না, সারা বাংলাদেশের কান্না। আমরা এই কান্নার অবসান চাই। কিন্তু অতীতে কেন বাস্তবায়ন হয় নাই, এটা সবাই বুঝে, শিশুও বুঝে। আমরা ওই লিগ্যাসি আর বহন করতে চাই না।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই প্রকল্প বাস্তবায়নে শুধু সাপোর্ট নয়, কিছু করার থাকলেও তাও করবো। কারণ আমরা দেশের কল্যাণ চাই, মানুষের কল্যাণ চাই।”

তিস্তা প্রকল্পটি মূলত নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলার জন্য পরিকল্পিত। এর সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশের পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি জড়িত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এটি বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অতীতে চীনের অর্থায়নের প্রস্তাব এবং ভারতের আগ্রহ, দুই দিক থেকেই প্রকল্পটি গুরুত্ব পেয়েছে, তবে এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “চীন অবিরত বন্ধুর পরিচয় দিয়ে চলেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে তারা কখনো হস্তক্ষেপ করেনি।” তার ভাষায়, কিছু দেশ “কিছু না দিয়েই হস্তক্ষেপ করে”, কিন্তু চীন সেই পথে হাঁটে না।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭৬ সালে চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। “চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র পুরোপুরি চীনের উপহার। বাংলাদেশের একটি টাকাও নাই,” বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অতীতে এই ধরনের বন্ধুত্বের নিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ তোলেন জামায়াত আমির।

বিদেশনীতি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা সারা বিশ্বের সভ্য সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চাই। কিন্তু আমাদের ঘাড়ের ওপর কারও আধিপত্য মেনে নেব না।” তার মতে, দেশের তরুণ প্রজন্ম আত্মমর্যাদার সঙ্গে বিশ্বে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে চায় এবং কোনো ধরনের বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতে রাজি নয়।

অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ঈদুল ফিতর সামনে রেখে এই সহায়তা মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির একটি অংশ। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যতেও উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে এই মন্তব্য কেবল একটি অবকাঠামো প্রকল্পের সীমায় আটকে নেই, বরং এটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং উন্নয়ন অগ্রাধিকারের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।