ঢাকা , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষাকে স্বচ্ছ রাখতে ভুল ও জালিয়াতি রোধে National University Bangladesh থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে একটি সমীক্ষা সফলভাবে শেষ করা হয়েছে Logo ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াবে সরকার Logo ঢাকাকে ‘ক্লিন এবং গ্রীন সিটি’ করতে সরকারের ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা Logo বৃষ্টির উচ্ছ্বাসে নিজেকে মুক্ত করে দিলেন পরীমণি Logo কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ Logo সোনার ভরিতে কমলো ২ হাজার ২১৬ টাকা Logo বিভ্রান্তি ছড়ানো শক্তি এখনো সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশের ৮ বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা Logo নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ড রান তাড়া করে দাপুটে জয় টাইগারদের
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা হয়নি কেন: জামায়াত আমির

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান না করায় সংসদে ব্যাখ্যা চেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিষয়টি নিয়ে তিনি জাতীয় সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সরকারের পক্ষ থেকে এর আইনি জটিলতার কথাও তুলে ধরা হয়।

রোববার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করার বিধান রয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই সভা ডাকা হয়নি।

রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে জারি হওয়া জুলাই সনদ এবং গণভোটের আদেশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে যেভাবে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে, একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভাও আহ্বান করা উচিত ছিল। “সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে এই সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। কেন হয়নি, তার ব্যাখ্যা চাই,” বলেন তিনি।

সংসদে জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান পরিবর্তনের জন্য রাষ্ট্রপতি কোনো অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন না। ফলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশটি আদৌ আইন, নাকি কেবল একটি নির্দেশনা, তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানে উল্লেখ নেই এমন বিষয়ে সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিতে পারেন না। পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও গণভোট সংক্রান্ত কয়েকটি বিষয় ইতোমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সংসদ এমন কোনো আইন পাস করতে পারে না, যা পরে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।” তার মতে, জুলাই সনদ মূলত একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যার ওপর জনগণের মতামত নেওয়ার জন্য গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে গণভোটের প্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে রয়েছে।

সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি কার্যকর করতে হলে আগে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এরপরই এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা সম্ভব হবে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের একই সঙ্গে আইনপ্রণেতা এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে। এই পরিষদের প্রধান দায়িত্ব হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জুলাই সনদে উল্লেখ থাকা সংবিধানের ৪৮টি বিধান পর্যালোচনা ও সংস্কারের সুপারিশ করা।

এদিকে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশিত হয় বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি)। ওই আদেশ অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে পরিষদের অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে সংসদে উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষাকে স্বচ্ছ রাখতে ভুল ও জালিয়াতি রোধে National University Bangladesh থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা হয়নি কেন: জামায়াত আমির

আপডেট সময় ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান না করায় সংসদে ব্যাখ্যা চেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিষয়টি নিয়ে তিনি জাতীয় সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সরকারের পক্ষ থেকে এর আইনি জটিলতার কথাও তুলে ধরা হয়।

রোববার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করার বিধান রয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই সভা ডাকা হয়নি।

রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে জারি হওয়া জুলাই সনদ এবং গণভোটের আদেশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে যেভাবে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে, একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভাও আহ্বান করা উচিত ছিল। “সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে এই সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। কেন হয়নি, তার ব্যাখ্যা চাই,” বলেন তিনি।

সংসদে জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান পরিবর্তনের জন্য রাষ্ট্রপতি কোনো অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন না। ফলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশটি আদৌ আইন, নাকি কেবল একটি নির্দেশনা, তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানে উল্লেখ নেই এমন বিষয়ে সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিতে পারেন না। পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও গণভোট সংক্রান্ত কয়েকটি বিষয় ইতোমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সংসদ এমন কোনো আইন পাস করতে পারে না, যা পরে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।” তার মতে, জুলাই সনদ মূলত একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যার ওপর জনগণের মতামত নেওয়ার জন্য গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে গণভোটের প্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে রয়েছে।

সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি কার্যকর করতে হলে আগে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এরপরই এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা সম্ভব হবে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের একই সঙ্গে আইনপ্রণেতা এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে। এই পরিষদের প্রধান দায়িত্ব হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জুলাই সনদে উল্লেখ থাকা সংবিধানের ৪৮টি বিধান পর্যালোচনা ও সংস্কারের সুপারিশ করা।

এদিকে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশিত হয় বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি)। ওই আদেশ অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে পরিষদের অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে সংসদে উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।