ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ড রান তাড়া করে দাপুটে জয় টাইগারদের

১৮৩ রানের লক্ষ্য টি-টোয়েন্টিতে সহজ নয়। কিন্তু চট্টগ্রামে সেটাকেই মামুলি করে ফেলল বাংলাদেশ। শুরুতে তিন উইকেট হারিয়ে চাপ তৈরি হলেও তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন ও পারভেজ হোসেন ইমনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে দারুণ সূচনা করেছে লিটন দাসের দল। দুই ওভার হাতে রেখে পাওয়া এই জয় শুধু সিরিজে এগিয়ে দেয়নি, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নতুন ইতিহাসও গড়েছে।

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতে সাবলীল ছিল। সাইফ হাসান ১৭, তানজিদ হাসান তামিম ২০ এবং অধিনায়ক লিটন দাস ২১ রান করলেও ৭৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ কিছুটা কিউইদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

সেই চাপের মুখে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। চতুর্থ উইকেটে তাদের ঝড়ো জুটি বাংলাদেশকে ফের লড়াইয়ে ফেরায়। ইমন ১৪ বলে ২৮ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নিলেও হৃদয় ছিলেন অবিচল। পরে শামীম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে জয়ের পথ একরকম মসৃণ করে দেন তিনি।

শেষ ১৮ বলে যখন দরকার ছিল ৩০ রান, তখন ম্যাচে আসে টার্নিং পয়েন্ট। ম্যাট ফিশারের এক ওভারে বাংলাদেশ তোলে ২৫ রান। ওই ওভারেই শামীমের আগ্রাসী ব্যাটিং ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের নাগালের বাইরে নিয়ে যায়। বিশেষ করে তার ‘নো লুক’ ছক্কা গ্যালারিতে বাড়তি উন্মাদনা ছড়ায়।

২৭ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকা হৃদয় ম্যাচসেরা হয়েছেন। ইনিংসে ছিল ৩টি ছক্কা ও ২টি চার। শামীম ১৩ বলে ৩১ এবং ইমন ২৮ রান করে জয়ের ভিত গড়ে দেন। শেষের এই তিন ব্যাটার শুধু বাউন্ডারি থেকেই আদায় করেন ৬০ রান।

এই জয়ে ভেঙেছে পুরোনো রেকর্ডও। টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এর আগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া ছিল ১৩৫। এবার ১৮৩ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে নতুন ইতিহাস লিখল টাইগাররা।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে তোলে ১৮২ রান। ফিন অ্যালেন না থাকলেও কিউইদের ব্যাটিংয়ে ছিল দাপট। কেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লিভার দুজনই ৫১ রান করেন। মাঝের ওভারগুলোতে বাংলাদেশের বোলারদের চাপে রাখলেও শেষ দিকে রিশাদ হোসেনের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং শরিফুল, শেখ মেহেদী ও তানজিমের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট কিউইদের আরও বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি। রিশাদ ২ উইকেট নিয়ে ছিলেন বাংলাদেশের সেরা বোলার।

ম্যাচ শেষে হৃদয়ের ব্যাটিং ও শেষ দিকে বাংলাদেশের আক্রমণ নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে গ্যালারিতেও। বড় রান তাড়ায় অতীতে ধস নামানোর যে সমালোচনা ছিল, এই ম্যাচে সেটার জবাবও দিল বাংলাদেশ। চাপের মুখে পাল্টা আক্রমণ করে ম্যাচ বের করে আনার এই সামর্থ্য সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোর জন্যও বড় বার্তা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ড রান তাড়া করে দাপুটে জয় টাইগারদের

আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে

১৮৩ রানের লক্ষ্য টি-টোয়েন্টিতে সহজ নয়। কিন্তু চট্টগ্রামে সেটাকেই মামুলি করে ফেলল বাংলাদেশ। শুরুতে তিন উইকেট হারিয়ে চাপ তৈরি হলেও তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন ও পারভেজ হোসেন ইমনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে দারুণ সূচনা করেছে লিটন দাসের দল। দুই ওভার হাতে রেখে পাওয়া এই জয় শুধু সিরিজে এগিয়ে দেয়নি, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নতুন ইতিহাসও গড়েছে।

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতে সাবলীল ছিল। সাইফ হাসান ১৭, তানজিদ হাসান তামিম ২০ এবং অধিনায়ক লিটন দাস ২১ রান করলেও ৭৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ কিছুটা কিউইদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

সেই চাপের মুখে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। চতুর্থ উইকেটে তাদের ঝড়ো জুটি বাংলাদেশকে ফের লড়াইয়ে ফেরায়। ইমন ১৪ বলে ২৮ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নিলেও হৃদয় ছিলেন অবিচল। পরে শামীম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে জয়ের পথ একরকম মসৃণ করে দেন তিনি।

শেষ ১৮ বলে যখন দরকার ছিল ৩০ রান, তখন ম্যাচে আসে টার্নিং পয়েন্ট। ম্যাট ফিশারের এক ওভারে বাংলাদেশ তোলে ২৫ রান। ওই ওভারেই শামীমের আগ্রাসী ব্যাটিং ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের নাগালের বাইরে নিয়ে যায়। বিশেষ করে তার ‘নো লুক’ ছক্কা গ্যালারিতে বাড়তি উন্মাদনা ছড়ায়।

২৭ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকা হৃদয় ম্যাচসেরা হয়েছেন। ইনিংসে ছিল ৩টি ছক্কা ও ২টি চার। শামীম ১৩ বলে ৩১ এবং ইমন ২৮ রান করে জয়ের ভিত গড়ে দেন। শেষের এই তিন ব্যাটার শুধু বাউন্ডারি থেকেই আদায় করেন ৬০ রান।

এই জয়ে ভেঙেছে পুরোনো রেকর্ডও। টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এর আগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া ছিল ১৩৫। এবার ১৮৩ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে নতুন ইতিহাস লিখল টাইগাররা।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে তোলে ১৮২ রান। ফিন অ্যালেন না থাকলেও কিউইদের ব্যাটিংয়ে ছিল দাপট। কেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লিভার দুজনই ৫১ রান করেন। মাঝের ওভারগুলোতে বাংলাদেশের বোলারদের চাপে রাখলেও শেষ দিকে রিশাদ হোসেনের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং শরিফুল, শেখ মেহেদী ও তানজিমের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট কিউইদের আরও বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি। রিশাদ ২ উইকেট নিয়ে ছিলেন বাংলাদেশের সেরা বোলার।

ম্যাচ শেষে হৃদয়ের ব্যাটিং ও শেষ দিকে বাংলাদেশের আক্রমণ নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে গ্যালারিতেও। বড় রান তাড়ায় অতীতে ধস নামানোর যে সমালোচনা ছিল, এই ম্যাচে সেটার জবাবও দিল বাংলাদেশ। চাপের মুখে পাল্টা আক্রমণ করে ম্যাচ বের করে আনার এই সামর্থ্য সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোর জন্যও বড় বার্তা।