ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঈদুল আজহা উপলক্ষে কর্মীদের জন্য ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা Logo সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন: মির্জা ফখরুল Logo ডিবির অভিযানে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ লেনদেন চক্রের ৬ চীনা নাগরিকসহ ৯ জন আটক Logo রাজশাহীর লিচু চাষ ঘিরে ৫৬ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা Logo ক্রমেই বাড়ছে বরিশালে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা Logo ২০২৭ সালের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ Logo ৬ মাসে ভোটার বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে, মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ Logo সিটি নির্বাচনে জামায়াতের একক কৌশল, ঘোষণা ১২ মেয়র প্রার্থী Logo নারায়ণগঞ্জে ‘ট্রাম্প’কে ঘিরে জনতার ভিড়, ৭০০ কেজির ষাঁড় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু Logo সাদিক কায়েমের আকদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত জামায়াতের আমির
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

ঈদযাত্রা: আনন্দের পথে অনিশ্চয়তার ছায়া

  • মোঃ মাসুম আহমেদ
  • আপডেট সময় ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

ঈদ আসলেই শহরের বাতাসে এক ধরনের অদ্ভুত ব্যস্ততা টের পাওয়া যায়। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট—সব জায়গায় শুধু একটাই দৃশ্য: মানুষ ঘরে ফিরতে চায়। কেউ বাবার জন্য নতুন পাঞ্জাবি নিয়ে যাচ্ছে, কেউ মায়ের জন্য শাড়ি, সবাই যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী আবার কেউ শুধু নিজের উপস্থিতিটাই নিয়ে যেতে চায় প্রিয়জনদের কাছে। এই টানটাই তো ঈদের আসল সৌন্দর্য।

কিন্তু এই সৌন্দর্যের পথটাই কেন এত কষ্টের?

বাস কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, তারপরও টিকিট না পাওয়া—এ যেন এখন স্বাভাবিক ঘটনা। অনেকেই শেষমেশ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বেছে নেন। কেউ বাসের ছাদে, কেউ ট্রাকের পেছনে—শুধু একটু আগে বাড়ি পৌঁছানোর আশায়। প্রশ্ন হলো, এই ঝুঁকিটা কি সত্যিই নেওয়ার কথা ছিল?

প্রতি বছরই শোনা যায় নানা প্রস্তুতির কথা—অতিরিক্ত ট্রেন, বিশেষ সার্ভিস, কঠোর নজরদারি। কিন্তু বাস্তবে যাত্রীরা কতটা স্বস্তি পান? যদি সত্যিই সব ব্যবস্থা কার্যকর হতো, তাহলে কি মানুষ এখনো এমন অনিশ্চয়তা নিয়ে পথে নামত?

সবচেয়ে কষ্টের জায়গা হলো—এই ঈদযাত্রা অনেক সময় আনন্দের বদলে শোক বয়ে আনে। সড়ক দুর্ঘটনার খবর, স্বজন হারানোর কান্না—এসব কি আমাদের কাছে নতুন কিছু? তবুও আমরা যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কিছুদিন আলোচনা হয়, তারপর আবার সব আগের মতো।

তবে দায়টা শুধু একপক্ষের নয়। পরিবহন খাতের অনিয়ম যেমন আছে, তেমনি আমাদের মাঝেও অসচেতনতা কম নয়। আমরা অনেকেই জানি ঝুঁকি আছে, তবুও শর্টকাট খুঁজি। দ্রুত পৌঁছাতে গিয়ে নিরাপত্তাকে অবহেলা করি। এই মানসিকতা বদলানোও জরুরি।

ঈদ মানে শুধু একটি উৎসব নয়—এটা মানুষের কাছে ফেরার গল্প। সেই ফেরার পথ যদি ভোগান্তি আর ভয় দিয়ে ভরা থাকে, তাহলে আনন্দটা কোথায় থাকে?

হয়তো এখন সময় এসেছে শুধু প্রস্তুতির ঘোষণা নয়, বাস্তব পরিবর্তন দেখার। আর আমাদেরও ভাবতে হবে—একটু দেরি হলেও নিরাপদে পৌঁছানোই কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়?

ঈদযাত্রা হোক সত্যিকারের ঘরে ফেরার আনন্দের পথ—ভয় আর অনিশ্চয়তার নয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কর্মীদের জন্য ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা

ঈদযাত্রা: আনন্দের পথে অনিশ্চয়তার ছায়া

আপডেট সময় ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ঈদ আসলেই শহরের বাতাসে এক ধরনের অদ্ভুত ব্যস্ততা টের পাওয়া যায়। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট—সব জায়গায় শুধু একটাই দৃশ্য: মানুষ ঘরে ফিরতে চায়। কেউ বাবার জন্য নতুন পাঞ্জাবি নিয়ে যাচ্ছে, কেউ মায়ের জন্য শাড়ি, সবাই যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী আবার কেউ শুধু নিজের উপস্থিতিটাই নিয়ে যেতে চায় প্রিয়জনদের কাছে। এই টানটাই তো ঈদের আসল সৌন্দর্য।

কিন্তু এই সৌন্দর্যের পথটাই কেন এত কষ্টের?

বাস কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, তারপরও টিকিট না পাওয়া—এ যেন এখন স্বাভাবিক ঘটনা। অনেকেই শেষমেশ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বেছে নেন। কেউ বাসের ছাদে, কেউ ট্রাকের পেছনে—শুধু একটু আগে বাড়ি পৌঁছানোর আশায়। প্রশ্ন হলো, এই ঝুঁকিটা কি সত্যিই নেওয়ার কথা ছিল?

প্রতি বছরই শোনা যায় নানা প্রস্তুতির কথা—অতিরিক্ত ট্রেন, বিশেষ সার্ভিস, কঠোর নজরদারি। কিন্তু বাস্তবে যাত্রীরা কতটা স্বস্তি পান? যদি সত্যিই সব ব্যবস্থা কার্যকর হতো, তাহলে কি মানুষ এখনো এমন অনিশ্চয়তা নিয়ে পথে নামত?

সবচেয়ে কষ্টের জায়গা হলো—এই ঈদযাত্রা অনেক সময় আনন্দের বদলে শোক বয়ে আনে। সড়ক দুর্ঘটনার খবর, স্বজন হারানোর কান্না—এসব কি আমাদের কাছে নতুন কিছু? তবুও আমরা যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কিছুদিন আলোচনা হয়, তারপর আবার সব আগের মতো।

তবে দায়টা শুধু একপক্ষের নয়। পরিবহন খাতের অনিয়ম যেমন আছে, তেমনি আমাদের মাঝেও অসচেতনতা কম নয়। আমরা অনেকেই জানি ঝুঁকি আছে, তবুও শর্টকাট খুঁজি। দ্রুত পৌঁছাতে গিয়ে নিরাপত্তাকে অবহেলা করি। এই মানসিকতা বদলানোও জরুরি।

ঈদ মানে শুধু একটি উৎসব নয়—এটা মানুষের কাছে ফেরার গল্প। সেই ফেরার পথ যদি ভোগান্তি আর ভয় দিয়ে ভরা থাকে, তাহলে আনন্দটা কোথায় থাকে?

হয়তো এখন সময় এসেছে শুধু প্রস্তুতির ঘোষণা নয়, বাস্তব পরিবর্তন দেখার। আর আমাদেরও ভাবতে হবে—একটু দেরি হলেও নিরাপদে পৌঁছানোই কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়?

ঈদযাত্রা হোক সত্যিকারের ঘরে ফেরার আনন্দের পথ—ভয় আর অনিশ্চয়তার নয়।