স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জোটগতভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। ইতোমধ্যে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের জন্য সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীও চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছেন তরুণ ও ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতারা।
জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কয়েক মাস ধরেই প্রার্থী যাচাই ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি চলছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও সিটি করপোরেশনে দলীয় পরিচয় ও সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের লক্ষ্যেই এককভাবে মাঠে নামতে চায় তারা।
দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ ১০ মে প্রথম আলোকে বলেন, “পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ে অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় শাখাগুলোর পাঠানো তিন সদস্যের প্যানেল থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বাছাই করা হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি সিটিতে নির্বাচনী প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে দলের মহানগর আমির আবদুল জব্বারকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন।
গাজীপুর সিটিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা হাফিজুর রহমান। চট্টগ্রাম সিটিতে আলোচনায় আছেন দলের নগর সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী। রংপুরে সম্ভাব্য প্রার্থী মহানগর আমির এ টি এম আজম খান।
ঢাকার দুই সিটিতেও চলছে জোর আলোচনা। ঢাকা উত্তরে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক, সাদিক কায়েমের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। সাদিক কায়েমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হলেও জামায়াত নেতারা বলছেন, নির্বাচনের সময়ের মধ্যে তাঁর ছাত্রত্ব ও ডাকসুর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। ফলে সাংগঠনিক বাধা থাকবে না।
জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলো নিজ নিজ দলের প্রার্থী দেবে, এখন পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই বহাল আছে।”
দলটির ভেতরে এখন বড় আলোচনার বিষয়, জোটগত নাকি একক নির্বাচন। জামায়াত নেতারা মনে করছেন, অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোটে থেকেও আলাদাভাবে নির্বাচন করে তারা বেশি সফলতা পেয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান যাচাই করতে চায় দলটি।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টিও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আলাদা প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলটি ইতোমধ্যে ঢাকার দুই সিটিসহ কয়েকটি সিটিতে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত জোটগত সমঝোতা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
জামায়াতের নেতারা আরও বলছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের বর্তমান ব্যবস্থা নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকার প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারে না। তাই দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে আগামী এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সব নির্বাচন সম্পন্ন করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সেই হিসাব ধরেই মাঠ গোছাতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো।

ক্রমেই বাড়ছে বরিশালে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা
অনলাইন ডেস্ক 




















