ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বেআইনি অস্ত্রের দাপটে নাজুক হয়ে পড়ছে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা Logo কালশীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনল ফায়ার সার্ভিস Logo ঈদযাত্রায় নারীদের জন্য ট্রেনে বিশেষ কোচের ব্যবস্থা Logo ‘মাইকেল’র সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আসছে ‘মাইকেল ২’ Logo বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় জায়গা করে নিলেন মেসি Logo জমে উঠেছে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাট, বাড়ছে ক্রেতার চাপ Logo এআই চিপের উচ্চ চাহিদায় সিঙ্গাপুরের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৬ শতাংশ Logo ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিতে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ বৈষম্য Logo জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে থাকবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, প্রস্তুতি শেষ Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য বৈঠক
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

বায়ার্নকে হারিয়ে ফাইনালে উঠল পিএসজি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা, ৭ মে ২০২৬: এবারও পারলো না জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে যাবার পথে এবার তাদের সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ালো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। গতবার সেমিফাইনালে খেলতে ব্যর্থ হওয়ায় বেভারিয়ান্সরা এবার দ্বিতীয় লেগে ১-১ গোলে ড্র করায় দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৬ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিদায় নিয়েছে। আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টের পুসকাস এরেনায় পিএসজির প্রতিপক্ষ ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনাল।

গতকাল মিউনিখের আলিয়াঁজ এরেনায় ম্যাচ শুরুর তিন মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে পাল্টা আক্রমণে গোল করে এগিয়ে যায় পিএসজি। ব্যালন ডি’অর জয়ী ওসমানে ডেম্বেলে লুইস এনরিকের দলের হয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।

পুরো ম্যাচে বায়ার্নের আক্রমণভাগকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় রাখতে সক্ষম হয় পিএসজি, যদিও যোগ করা সময়ে হ্যারি কেন একটি গোল শোধ দেন।

ম্যাচ শেষে পিএসজির ফরোয়ার্ড ডিসায়ার ডুয়ে বলেন, “এটি ছিল অসাধারণ একটি ম্যাচ, মিউনিখে আরেকটি জাদুকরী রাত, তাও আবার দুর্দান্ত একটি দলের বিপক্ষে।

ছোটবেলা থেকেই আমরা এমন ম্যাচ খেলার স্বপ্ন দেখেছি। এখন আমরা দল হিসেবে এটি উপভোগ করবো।”

গত মৌসুমে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিল প্যারিসের জায়ান্টরা। সেই আলিয়াঁজ এরেনায় ফিরে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিল পিএসজি।

বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ দল আর্সেনালের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ফরাসি ক্লাবটি।

১৯৯০ সালের পর থেকে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করা একমাত্র দল রিয়াল মাদ্রিদ। এবার সেই কীর্তিতে নাম লেখাতে চায় পিএসজি।

প্রথমার্ধে রেফারির বেশ কিছু সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ছিল স্বাগতিক বায়ার্ন। তবে প্যারিসে প্রথম লেগে ৫-৪ হারের ম্যাচে যে ধারালো আক্রমণ দেখা গিয়েছিল, এবার তা ছিল না। ২০২০ সালে লিসবনে পিএসজিকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর থেকে ফাইনালে উঠতে পারেনি ছয়বারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।

বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি বলেন, “আমি দীর্ঘ সময় হতাশ হয়ে থাকতে পারি না। অবশ্যই আমরা খুব শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অল্প ব্যবধানে দুটি ম্যাচ হেরেছি।”

দুই দলই সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমের ৫২তম ম্যাচ খেলতে মাঠে নেমেছিল। যদিও বায়ার্নের খেলোয়াড়দের বেশী পরিশ্রান্ত মনে হয়েছে। প্রথম লেগে দুর্দান্ত খেলা মাইকেল ওলিসে এবার ছিলেন নিষ্প্রভ। বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন এবং লিগ ওয়ান শিরোপার পথে থাকা পিএসজি- দুই দলই সপ্তাহান্তের লিগ ম্যাচে অনেক খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়েছিল।

তবে প্রথম লেগের তুলনায় দুই দলই মাত্র একটি করে পরিবর্তন আনে। ইনজুরিতে থাকা আশরাফ হাকিমির পরিবর্তে পিএসজির একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন ফাবিয়ান রুইজ।

প্যারিসে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ বলা হচ্ছিল এবং বুধবারের ম্যাচও শুরুতে একই উত্তেজনা দেখা যায়।

রুইজের দারুণ থ্রু পাসে বাম দিক দিয়ে কাভিচা কাভারাটসখেলিয়া ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল বাড়িয়ে দেন ডেম্বেলের কাছে। নিখুঁত ফিনিশে ডেম্বেলে বল জালে প্রবেশ করান।

কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ৩৬ সেকেন্ডে গোল হজম করেও ফিরে এসেছিল বায়ার্ন। কিন্তু এবার আর ঘুড়ে দাঁড়াতে পারেনি। প্রথম আধাঘণ্টায় ওলিসে, কেন ও জসুয়া কিমিচ বারবার ভুল পাস দিয়ে আক্রমণ নষ্ট করেন। ৩০ মিনিটে ভিটিনহার ক্লিয়ারেন্স হুয়াও নেভেসের হাতে লাগলে পেনাল্টির আবেদন জানায় বায়ার্ন, কিন্তু রেফারি হুয়াও পিনহেইরো তা নাকচ করে দেন।

এর আগে পিএসজির ফুলব্যাক নুনো মেন্ডেসের হ্যান্ডবলের পরও দ্বিতীয় হলুদ কার্ড না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয় স্বাগতিকরা। পিএসজি দ্বিতীয় গোল প্রায় পেয়েই গিয়েছিল। কিন্তু ম্যানুয়েল নয়্যার দারুণ দক্ষতায় নেভেসের হেড পোস্টের বাইরে পাঠান। বিরতির ঠিক আগে ছন্দ ফিরে পায় বায়ার্ন। জামাল মুসিয়ালার একটি নিচু শটে পিএসজি গোলরক্ষক মাটভে সাফোনোভ দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজি আরও পরিণত ফুটবল খেলে। রক্ষণে নেমে বায়ার্নের চাপ সামাল দেয়। একইসাথে কাউন্টার এ্যাটাকও বজায় রাখে।

বায়ার্ন বলের দখল ও মাঠের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা পায় যোগ করা সময়ে। এটি ছিল কেনের এবারের আসরে সপ্তম গোল। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। কেনের গোলটি শেষ পর্যন্ত সান্তনা হয়ে থেকেছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বেআইনি অস্ত্রের দাপটে নাজুক হয়ে পড়ছে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

বায়ার্নকে হারিয়ে ফাইনালে উঠল পিএসজি

আপডেট সময় ১২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ঢাকা, ৭ মে ২০২৬: এবারও পারলো না জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে যাবার পথে এবার তাদের সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ালো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। গতবার সেমিফাইনালে খেলতে ব্যর্থ হওয়ায় বেভারিয়ান্সরা এবার দ্বিতীয় লেগে ১-১ গোলে ড্র করায় দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৬ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিদায় নিয়েছে। আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টের পুসকাস এরেনায় পিএসজির প্রতিপক্ষ ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনাল।

গতকাল মিউনিখের আলিয়াঁজ এরেনায় ম্যাচ শুরুর তিন মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে পাল্টা আক্রমণে গোল করে এগিয়ে যায় পিএসজি। ব্যালন ডি’অর জয়ী ওসমানে ডেম্বেলে লুইস এনরিকের দলের হয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।

পুরো ম্যাচে বায়ার্নের আক্রমণভাগকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় রাখতে সক্ষম হয় পিএসজি, যদিও যোগ করা সময়ে হ্যারি কেন একটি গোল শোধ দেন।

ম্যাচ শেষে পিএসজির ফরোয়ার্ড ডিসায়ার ডুয়ে বলেন, “এটি ছিল অসাধারণ একটি ম্যাচ, মিউনিখে আরেকটি জাদুকরী রাত, তাও আবার দুর্দান্ত একটি দলের বিপক্ষে।

ছোটবেলা থেকেই আমরা এমন ম্যাচ খেলার স্বপ্ন দেখেছি। এখন আমরা দল হিসেবে এটি উপভোগ করবো।”

গত মৌসুমে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিল প্যারিসের জায়ান্টরা। সেই আলিয়াঁজ এরেনায় ফিরে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিল পিএসজি।

বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ দল আর্সেনালের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ফরাসি ক্লাবটি।

১৯৯০ সালের পর থেকে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করা একমাত্র দল রিয়াল মাদ্রিদ। এবার সেই কীর্তিতে নাম লেখাতে চায় পিএসজি।

প্রথমার্ধে রেফারির বেশ কিছু সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ছিল স্বাগতিক বায়ার্ন। তবে প্যারিসে প্রথম লেগে ৫-৪ হারের ম্যাচে যে ধারালো আক্রমণ দেখা গিয়েছিল, এবার তা ছিল না। ২০২০ সালে লিসবনে পিএসজিকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর থেকে ফাইনালে উঠতে পারেনি ছয়বারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।

বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি বলেন, “আমি দীর্ঘ সময় হতাশ হয়ে থাকতে পারি না। অবশ্যই আমরা খুব শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অল্প ব্যবধানে দুটি ম্যাচ হেরেছি।”

দুই দলই সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমের ৫২তম ম্যাচ খেলতে মাঠে নেমেছিল। যদিও বায়ার্নের খেলোয়াড়দের বেশী পরিশ্রান্ত মনে হয়েছে। প্রথম লেগে দুর্দান্ত খেলা মাইকেল ওলিসে এবার ছিলেন নিষ্প্রভ। বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন এবং লিগ ওয়ান শিরোপার পথে থাকা পিএসজি- দুই দলই সপ্তাহান্তের লিগ ম্যাচে অনেক খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়েছিল।

তবে প্রথম লেগের তুলনায় দুই দলই মাত্র একটি করে পরিবর্তন আনে। ইনজুরিতে থাকা আশরাফ হাকিমির পরিবর্তে পিএসজির একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন ফাবিয়ান রুইজ।

প্যারিসে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ বলা হচ্ছিল এবং বুধবারের ম্যাচও শুরুতে একই উত্তেজনা দেখা যায়।

রুইজের দারুণ থ্রু পাসে বাম দিক দিয়ে কাভিচা কাভারাটসখেলিয়া ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল বাড়িয়ে দেন ডেম্বেলের কাছে। নিখুঁত ফিনিশে ডেম্বেলে বল জালে প্রবেশ করান।

কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ৩৬ সেকেন্ডে গোল হজম করেও ফিরে এসেছিল বায়ার্ন। কিন্তু এবার আর ঘুড়ে দাঁড়াতে পারেনি। প্রথম আধাঘণ্টায় ওলিসে, কেন ও জসুয়া কিমিচ বারবার ভুল পাস দিয়ে আক্রমণ নষ্ট করেন। ৩০ মিনিটে ভিটিনহার ক্লিয়ারেন্স হুয়াও নেভেসের হাতে লাগলে পেনাল্টির আবেদন জানায় বায়ার্ন, কিন্তু রেফারি হুয়াও পিনহেইরো তা নাকচ করে দেন।

এর আগে পিএসজির ফুলব্যাক নুনো মেন্ডেসের হ্যান্ডবলের পরও দ্বিতীয় হলুদ কার্ড না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয় স্বাগতিকরা। পিএসজি দ্বিতীয় গোল প্রায় পেয়েই গিয়েছিল। কিন্তু ম্যানুয়েল নয়্যার দারুণ দক্ষতায় নেভেসের হেড পোস্টের বাইরে পাঠান। বিরতির ঠিক আগে ছন্দ ফিরে পায় বায়ার্ন। জামাল মুসিয়ালার একটি নিচু শটে পিএসজি গোলরক্ষক মাটভে সাফোনোভ দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজি আরও পরিণত ফুটবল খেলে। রক্ষণে নেমে বায়ার্নের চাপ সামাল দেয়। একইসাথে কাউন্টার এ্যাটাকও বজায় রাখে।

বায়ার্ন বলের দখল ও মাঠের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা পায় যোগ করা সময়ে। এটি ছিল কেনের এবারের আসরে সপ্তম গোল। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। কেনের গোলটি শেষ পর্যন্ত সান্তনা হয়ে থেকেছে।