ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাজনৈতিক দলের কোনো সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo রাজধানীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ঈদের দিনেও ঝোড়ো বৃষ্টির পূর্বাভাস Logo বিশ্বকাপ নয়, আমরা যুক্তরাষ্ট্র বয়কট করব : ইরান ফুটবল প্রধান Logo পদ্মা সেতুতে একদিনে টোল আদায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা Logo ফরিদপুরে প্রজন্ম বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কেন্দ্র করে আজও ২৬ ফ্লাইট বাতিল Logo ২১ ঘণ্টা পর উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক Logo লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা ইরানের Logo বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত Logo ঈদের দিন সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 
ফসলি জমি গিলে খাচ্ছে ‘মাটিখেকো’ সিন্ডিকেট

ফরিদপুরে জরিমানাই যখন অবৈধ কাজের লাইসেন্স

ফরিদপুর জেলাজুড়ে ফসলি জমির বুক চিরে মাটি কাটার এক ভয়াবহ মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের মাঝেমধ্যে পরিচালিত অভিযান ও নামমাত্র জরিমানা এখন মাটিখেকো ব্যবসায়ীদের কাছে ‘অবৈধ কাজের লাইসেন্স’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একবার জরিমানা দেওয়ার পরদিন থেকেই দ্বিগুণ উৎসাহে পুনরায় মাটি কাটায় লিপ্ত হচ্ছে প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেট।

​মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান যেখানে শেষ হচ্ছে, সেখান থেকেই পুনরায় শুরু হচ্ছে ধ্বংসযজ্ঞ। ব্যবসায়ীরা জরিমানার অর্থকে কোনো দণ্ড নয়, বরং স্রেফ ‘ব্যবসায়িক খরচ’ (Business Cost) হিসেবে ধরে নিয়েছেন। গতকাল যেখানে ভেকু (এক্সেভেটর) মেশিনে তালা দেওয়া হয়েছে, আজ সেখানেই প্রকাশ্য দিবালোকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের এই ‘নরম-গরম’ অবস্থানে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এই সিন্ডিকেট কি আইনের চেয়েও শক্তিশালী?

​অনিয়ন্ত্রিত এই মাটি কাটার ফলে জেলাজুড়ে কেবল কৃষিজমিই কমছে না, তৈরি হয়েছে দীর্ঘমেয়াদী জনদুর্ভোগ:​ রাস্তার ধ্বংসযজ্ঞ: ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ওজনের ভারী ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলো দ্রুত ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি: মাটি পরিবহনের সময় উপচে পড়া ধুলোবালিতে পুরো এলাকার বাতাস দূষিত হচ্ছে, ফলে বাড়ছে শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ চর্মরোগ। মৃত্যুফাঁদ: যত্রতত্র গভীর গর্ত এবং রাস্তায় কাদা জমে থাকায় ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের চিত্র।

​সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—প্রশাসনের কঠোর অবস্থান কি কেবল অর্থদণ্ডেই সীমাবদ্ধ? নাকি কোনো প্রভাবশালী মহলের অদৃশ্য ইশারায় এই কার্যক্রম থামছে না? স্থানীয় এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “জরিমানা তো ওরা হাসিমুখে দেয়, কারণ দুই ট্রাক মাটি বেচলেই জরিমানার টাকা উঠে আসে। আমাদের দরকার স্থায়ী সমাধান।”

স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষকদের দাবি, কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কেবল জরিমানা যথেষ্ট নয়। মাটি কাটার সরঞ্জাম ও ট্রাক স্থায়ীভাবে জব্দসহ দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কারাদণ্ড প্রদান করা প্রয়োজন। অন্যথায়, অচিরেই জেলার উর্বর ফসলি জমি কেবল বিশাল জলাশয়ে পরিণত হবে, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলবে।

​জেলায় কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় এখন রাষ্ট্রীয় ঊর্ধ্বতন মহলের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে ফরিদপুরবাসী।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনৈতিক দলের কোনো সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ফসলি জমি গিলে খাচ্ছে ‘মাটিখেকো’ সিন্ডিকেট

ফরিদপুরে জরিমানাই যখন অবৈধ কাজের লাইসেন্স

আপডেট সময় ০১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুর জেলাজুড়ে ফসলি জমির বুক চিরে মাটি কাটার এক ভয়াবহ মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের মাঝেমধ্যে পরিচালিত অভিযান ও নামমাত্র জরিমানা এখন মাটিখেকো ব্যবসায়ীদের কাছে ‘অবৈধ কাজের লাইসেন্স’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একবার জরিমানা দেওয়ার পরদিন থেকেই দ্বিগুণ উৎসাহে পুনরায় মাটি কাটায় লিপ্ত হচ্ছে প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেট।

​মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান যেখানে শেষ হচ্ছে, সেখান থেকেই পুনরায় শুরু হচ্ছে ধ্বংসযজ্ঞ। ব্যবসায়ীরা জরিমানার অর্থকে কোনো দণ্ড নয়, বরং স্রেফ ‘ব্যবসায়িক খরচ’ (Business Cost) হিসেবে ধরে নিয়েছেন। গতকাল যেখানে ভেকু (এক্সেভেটর) মেশিনে তালা দেওয়া হয়েছে, আজ সেখানেই প্রকাশ্য দিবালোকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের এই ‘নরম-গরম’ অবস্থানে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এই সিন্ডিকেট কি আইনের চেয়েও শক্তিশালী?

​অনিয়ন্ত্রিত এই মাটি কাটার ফলে জেলাজুড়ে কেবল কৃষিজমিই কমছে না, তৈরি হয়েছে দীর্ঘমেয়াদী জনদুর্ভোগ:​ রাস্তার ধ্বংসযজ্ঞ: ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ওজনের ভারী ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলো দ্রুত ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি: মাটি পরিবহনের সময় উপচে পড়া ধুলোবালিতে পুরো এলাকার বাতাস দূষিত হচ্ছে, ফলে বাড়ছে শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ চর্মরোগ। মৃত্যুফাঁদ: যত্রতত্র গভীর গর্ত এবং রাস্তায় কাদা জমে থাকায় ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের চিত্র।

​সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—প্রশাসনের কঠোর অবস্থান কি কেবল অর্থদণ্ডেই সীমাবদ্ধ? নাকি কোনো প্রভাবশালী মহলের অদৃশ্য ইশারায় এই কার্যক্রম থামছে না? স্থানীয় এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “জরিমানা তো ওরা হাসিমুখে দেয়, কারণ দুই ট্রাক মাটি বেচলেই জরিমানার টাকা উঠে আসে। আমাদের দরকার স্থায়ী সমাধান।”

স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষকদের দাবি, কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কেবল জরিমানা যথেষ্ট নয়। মাটি কাটার সরঞ্জাম ও ট্রাক স্থায়ীভাবে জব্দসহ দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কারাদণ্ড প্রদান করা প্রয়োজন। অন্যথায়, অচিরেই জেলার উর্বর ফসলি জমি কেবল বিশাল জলাশয়ে পরিণত হবে, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলবে।

​জেলায় কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় এখন রাষ্ট্রীয় ঊর্ধ্বতন মহলের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে ফরিদপুরবাসী।