ঢাকা , রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

নিমিষেই উধাও তেলের সংকট, পেট্রোল পাম্পগুলোতে এখন শুধুই নীরবতা

  • মাহ্দী হাসান
  • আপডেট সময় ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা: মাত্র কয়েকদিন আগেও দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে ছিল দীর্ঘ লাইন, হুড়োহুড়ি আর চরম বিশৃঙ্খলা। এক লিটার তেলের জন্য রাতভর অপেক্ষা করেও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হতো। তেলের এই তীব্র সংকট কাঁপিয়ে দিয়েছিল দেশের প্রতিটি স্তর। কিন্তু হঠাৎ করেই বদলে গেছে পুরো চিত্র। দীর্ঘদিনের সেই হাহাকার আর নেই, বরং পাম্পগুলোতে এখন নেমে এসেছে নীরবতা। হাজার হাজার লিটার তেল নিয়ে বসে অলস সময় পার করছেন পাম্প মালিক ও কর্মচারীরা।

 

  • ৮ ঘণ্টার অপেক্ষা এখন নেমেছে ২ মিনিটে
    আগে যেখানে বাইকারদের তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, সেখানে এখন মাত্র কয়েক মিনিটেই মিলছে কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি। একজন বাইকার তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “এর আগে আমি আট ঘণ্টা লাইনে ছিলাম, রাত ৯টায় দাঁড়িয়ে ভোরবেলা তেল নিয়েছি। আর আজকে এসে দুই মিনিটও লাগেনি, সাথে সাথেই তেল নিয়ে নিয়েছি”।

 

  • সিন্ডিকেটের পতন ও সরকারের পদক্ষেপ
    সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণেই ভেঙে পড়েছে দীর্ঘদিনের তেল সিন্ডিকেট। অনেকেই মনে করছেন, অসাধু চক্ররা তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু দাম সমন্বয় এবং সরকারের ত্বরিত সিদ্ধান্তের ফলে মজুতদাররা তাদের ধরে রাখা তেল বাজারে ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’ (We have a plan) কৌশলেই মূলত এই পরিস্থিতির জাদুকরী পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

  • ক্রেতার অভাব ও বদলে যাওয়া অভ্যাস
    মজার ব্যাপার হলো, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও পাম্পগুলোতে এখন ক্রেতার খরা। আগে যারা ‘টাংকি ফুল’ করতেন, তারা এখন ১০০ থেকে ৩০০ টাকার তেল নিচ্ছেন। পাম্প কর্তৃপক্ষের মতে, সংকটের সময় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বাসায় তেল মজুত করেছিল। এখন তারা সেই জমানো তেল ব্যবহার করছেন বলেই পাম্পে ভিড় কম। তবে অসাধু চক্রের মজুত শেষ হলে আবারও বাজারে স্বাভাবিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। সরকারের এই এক পদক্ষেপেই নিমিষে শেষ হয়ে গিয়েছে তেলের সংকট, যার ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ফিরেছে চরম স্বস্তি। সিন্ডিকেট ভেঙে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করায় সাধারণ মানুষ সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পবিত্র ঈদ উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিমকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

নিমিষেই উধাও তেলের সংকট, পেট্রোল পাম্পগুলোতে এখন শুধুই নীরবতা

আপডেট সময় ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ঢাকা: মাত্র কয়েকদিন আগেও দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে ছিল দীর্ঘ লাইন, হুড়োহুড়ি আর চরম বিশৃঙ্খলা। এক লিটার তেলের জন্য রাতভর অপেক্ষা করেও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হতো। তেলের এই তীব্র সংকট কাঁপিয়ে দিয়েছিল দেশের প্রতিটি স্তর। কিন্তু হঠাৎ করেই বদলে গেছে পুরো চিত্র। দীর্ঘদিনের সেই হাহাকার আর নেই, বরং পাম্পগুলোতে এখন নেমে এসেছে নীরবতা। হাজার হাজার লিটার তেল নিয়ে বসে অলস সময় পার করছেন পাম্প মালিক ও কর্মচারীরা।

 

  • ৮ ঘণ্টার অপেক্ষা এখন নেমেছে ২ মিনিটে
    আগে যেখানে বাইকারদের তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, সেখানে এখন মাত্র কয়েক মিনিটেই মিলছে কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি। একজন বাইকার তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “এর আগে আমি আট ঘণ্টা লাইনে ছিলাম, রাত ৯টায় দাঁড়িয়ে ভোরবেলা তেল নিয়েছি। আর আজকে এসে দুই মিনিটও লাগেনি, সাথে সাথেই তেল নিয়ে নিয়েছি”।

 

  • সিন্ডিকেটের পতন ও সরকারের পদক্ষেপ
    সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণেই ভেঙে পড়েছে দীর্ঘদিনের তেল সিন্ডিকেট। অনেকেই মনে করছেন, অসাধু চক্ররা তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু দাম সমন্বয় এবং সরকারের ত্বরিত সিদ্ধান্তের ফলে মজুতদাররা তাদের ধরে রাখা তেল বাজারে ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’ (We have a plan) কৌশলেই মূলত এই পরিস্থিতির জাদুকরী পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

  • ক্রেতার অভাব ও বদলে যাওয়া অভ্যাস
    মজার ব্যাপার হলো, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও পাম্পগুলোতে এখন ক্রেতার খরা। আগে যারা ‘টাংকি ফুল’ করতেন, তারা এখন ১০০ থেকে ৩০০ টাকার তেল নিচ্ছেন। পাম্প কর্তৃপক্ষের মতে, সংকটের সময় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বাসায় তেল মজুত করেছিল। এখন তারা সেই জমানো তেল ব্যবহার করছেন বলেই পাম্পে ভিড় কম। তবে অসাধু চক্রের মজুত শেষ হলে আবারও বাজারে স্বাভাবিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। সরকারের এই এক পদক্ষেপেই নিমিষে শেষ হয়ে গিয়েছে তেলের সংকট, যার ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ফিরেছে চরম স্বস্তি। সিন্ডিকেট ভেঙে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করায় সাধারণ মানুষ সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।