ঢাকা , বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসীদের আতঙ্কে রাজধানীবাসী

ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসীদের আতঙ্গে রাজধানীর মানুষ। বর্তমানে রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়কগুলোয় প্রকাশ্যেই চলছে অনেক সশস্ত্র অপরাধ। আর শুধু সশস্ত্র ছিনতাই নয়, চুরি-ডাকাতির সঙ্গে হত্যার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে রাজধানীতে বেড়েছে। রাজধানীতে গত চার মাসে হত্যার শিকার হয়েছে ৭৮ জন। আর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ গত ছয় মাসে গ্রেপ্তার করেছে প্রায় এক হাজার ১০০ ছিনতাইকারীকে। রাজধানীতে এতো ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। বরং রাজধানীরবাসীর আতঙ্ক এখন দিন দিন বেড়েই চলেছে। ভুক্তভোগী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে ছিনতাইয়ের পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনাও বাড়ছে। গত ৭ মে রাতে মহাখালীর পুরনো কাঁচাবাজারের সামনে মোটরসাইকেলে আসা ৫/৬জন সন্ত্রাসী কোনো কারণ ছাড়াই এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়। একই দিন কদমতলীর ঢাকা ম্যাচ কলোনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে ৪ জন আহত হয়। ওসব ঘটনার কোনো কোনোটির ভিডিওচিত্র সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। আর গোলাগুলির ওসব ভিডিও দেখে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে।

 

সূত্র জানায়, সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র হচ্ছে নিরাপত্তা শঙ্কা। কারণ অপরাধীরা বেপরোয়া। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, মালিবাগ, শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী, আদাবরসহ নানা এলাকায় প্রায়ই ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। যদিও পুলিশ গত ছয় মাসে রাজধানী থেকে অন্তত এক হাজার ১০০ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তিন ধরনের ছিনতাইকারী রাজধানীতে সক্রিয়। তাদের একটি গ্রুপ পেশাদার ছিনতাইকারী, যারা প্রাইভেট কার বা অটোরিকশা নিয়ে নির্দিষ্ট স্পটে ওৎ পেতে থাকে। মাদকাসক্ত কিশোররা মাদকের টাকা জোগাতে পথচারীদের ব্যাগ বা ফোন ছিনিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। আর কিশোর গ্যাং ও শৌখিন অপরাধীদের অনেকে উচ্চবিত্ত পরিবারের বখে যাওয়া সন্তান বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রও রয়েছে, যারা মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ায় এবং অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে ছিনতাই করে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে রাজধানীতে ১০১টি ছিনতাই ও দস্যুতার মামলা হয়েছে। গত এপ্রিল মাসে ছিনতাই ও দস্যুতার ২৫টি মামলা হয়। মার্চ মাসেও একইসংখ্যক মামলা হয়। আর ফেব্রুয়ারি মাসে মামলা হয় ২২টি এবং জানুয়ারিতে ২৯টি।

 

সূত্র আরো জানায়, ছিনতাইয়ের শিকার ভুক্তভোগীদের একটি বড় অংশই হয়রানির ভয়ে থানায় যায় না। আবার যারা যান তাদের অনেকে পুলিশের মামলা না নেয়ার প্রবণতার কারণে কেবল জিডি করে ফিরে আসে। রাজধানীর ফুটপাতগুলোয় এখন সাধারণ মানুষ বা অফিসগামী পথচারীরা মোবাইল হাতে নিয়ে হাঁটতে ভয় পান। সন্ধ্যার পর বাসে বা রিকশায় যাতায়াতের সময় জানালা দিয়ে ছোঁ মারা বা ধারালো অস্ত্র ঠেকানো সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর যারা ভোরে ট্রেন বা বাসে করে ঢাকায় ফেরে, তাঁরা সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত।

এদিকে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, সমপ্রতি রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো কেবল আইন-শৃঙ্খলার অবনতিই নয়, নাগরিক নিরাপত্তাবোধের সংকেতও বহন করে। বিশেষ করে ভোরবেলায় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে সংঘটিত ছিনতাই সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। বেকারত্ব, মাদকসংযোগ, অপরাধচক্রের বিস্তার এবং দুর্বল নজরদারির কারণে এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলা বা নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যকর করা জরুরি। একই সঙ্গে বাড়াতে হবে সামাজিক প্রতিরোধ ও নাগরিক সচেতনতাও।

 

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন জানান, গ্রেপ্তার হওয়ার পর ছিনতাইকারীরা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসে এবং আবারো একই পেশায় জড়ায়। তাদের বেশির ভাগই মাদকাসক্ত। ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চেষ্টা করছে। সেজন্য পুলিশের টহল ও চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পবিত্র ঈদ উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিমকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসীদের আতঙ্কে রাজধানীবাসী

আপডেট সময় ৭ ঘন্টা আগে

ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসীদের আতঙ্গে রাজধানীর মানুষ। বর্তমানে রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়কগুলোয় প্রকাশ্যেই চলছে অনেক সশস্ত্র অপরাধ। আর শুধু সশস্ত্র ছিনতাই নয়, চুরি-ডাকাতির সঙ্গে হত্যার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে রাজধানীতে বেড়েছে। রাজধানীতে গত চার মাসে হত্যার শিকার হয়েছে ৭৮ জন। আর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ গত ছয় মাসে গ্রেপ্তার করেছে প্রায় এক হাজার ১০০ ছিনতাইকারীকে। রাজধানীতে এতো ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। বরং রাজধানীরবাসীর আতঙ্ক এখন দিন দিন বেড়েই চলেছে। ভুক্তভোগী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে ছিনতাইয়ের পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনাও বাড়ছে। গত ৭ মে রাতে মহাখালীর পুরনো কাঁচাবাজারের সামনে মোটরসাইকেলে আসা ৫/৬জন সন্ত্রাসী কোনো কারণ ছাড়াই এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়। একই দিন কদমতলীর ঢাকা ম্যাচ কলোনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে ৪ জন আহত হয়। ওসব ঘটনার কোনো কোনোটির ভিডিওচিত্র সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। আর গোলাগুলির ওসব ভিডিও দেখে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে।

 

সূত্র জানায়, সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র হচ্ছে নিরাপত্তা শঙ্কা। কারণ অপরাধীরা বেপরোয়া। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, মালিবাগ, শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী, আদাবরসহ নানা এলাকায় প্রায়ই ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। যদিও পুলিশ গত ছয় মাসে রাজধানী থেকে অন্তত এক হাজার ১০০ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তিন ধরনের ছিনতাইকারী রাজধানীতে সক্রিয়। তাদের একটি গ্রুপ পেশাদার ছিনতাইকারী, যারা প্রাইভেট কার বা অটোরিকশা নিয়ে নির্দিষ্ট স্পটে ওৎ পেতে থাকে। মাদকাসক্ত কিশোররা মাদকের টাকা জোগাতে পথচারীদের ব্যাগ বা ফোন ছিনিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। আর কিশোর গ্যাং ও শৌখিন অপরাধীদের অনেকে উচ্চবিত্ত পরিবারের বখে যাওয়া সন্তান বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রও রয়েছে, যারা মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ায় এবং অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে ছিনতাই করে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে রাজধানীতে ১০১টি ছিনতাই ও দস্যুতার মামলা হয়েছে। গত এপ্রিল মাসে ছিনতাই ও দস্যুতার ২৫টি মামলা হয়। মার্চ মাসেও একইসংখ্যক মামলা হয়। আর ফেব্রুয়ারি মাসে মামলা হয় ২২টি এবং জানুয়ারিতে ২৯টি।

 

সূত্র আরো জানায়, ছিনতাইয়ের শিকার ভুক্তভোগীদের একটি বড় অংশই হয়রানির ভয়ে থানায় যায় না। আবার যারা যান তাদের অনেকে পুলিশের মামলা না নেয়ার প্রবণতার কারণে কেবল জিডি করে ফিরে আসে। রাজধানীর ফুটপাতগুলোয় এখন সাধারণ মানুষ বা অফিসগামী পথচারীরা মোবাইল হাতে নিয়ে হাঁটতে ভয় পান। সন্ধ্যার পর বাসে বা রিকশায় যাতায়াতের সময় জানালা দিয়ে ছোঁ মারা বা ধারালো অস্ত্র ঠেকানো সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর যারা ভোরে ট্রেন বা বাসে করে ঢাকায় ফেরে, তাঁরা সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত।

এদিকে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, সমপ্রতি রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো কেবল আইন-শৃঙ্খলার অবনতিই নয়, নাগরিক নিরাপত্তাবোধের সংকেতও বহন করে। বিশেষ করে ভোরবেলায় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে সংঘটিত ছিনতাই সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। বেকারত্ব, মাদকসংযোগ, অপরাধচক্রের বিস্তার এবং দুর্বল নজরদারির কারণে এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলা বা নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যকর করা জরুরি। একই সঙ্গে বাড়াতে হবে সামাজিক প্রতিরোধ ও নাগরিক সচেতনতাও।

 

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন জানান, গ্রেপ্তার হওয়ার পর ছিনতাইকারীরা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসে এবং আবারো একই পেশায় জড়ায়। তাদের বেশির ভাগই মাদকাসক্ত। ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চেষ্টা করছে। সেজন্য পুলিশের টহল ও চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে।