ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বনানীতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদকসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ Logo মধ্যপ্রাচ্য সংকট চলাকালীন ভারত সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ঈদুল আজহা উপলক্ষে কর্মীদের জন্য ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা Logo সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন: মির্জা ফখরুল Logo ডিবির অভিযানে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ লেনদেন চক্রের ৬ চীনা নাগরিকসহ ৯ জন আটক Logo রাজশাহীর লিচু চাষ ঘিরে ৫৬ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা Logo ক্রমেই বাড়ছে বরিশালে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা Logo ২০২৭ সালের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ Logo ৬ মাসে ভোটার বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে, মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ Logo সিটি নির্বাচনে জামায়াতের একক কৌশল, ঘোষণা ১২ মেয়র প্রার্থী
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

কিভাবে দূর করবেন সন্তানের মোবাইল আসক্তি?

খেয়াল করে দেখেছেন, সন্তান একটু ফাঁকা সময় পেলেই মোবাইল হাতে নিচ্ছে? খাওয়া, পড়া, এমনকি ঘুমানোর আগেও স্ক্রিন – সবকিছুতেই যেন মোবাইল ছাড়া চলছে না। প্রথমে বিষয়টিতে আপনার কাজে সুবিধা হলেও ধীরে ধীরে এটি অভ্যাসে পরিণত হয়, যা শিশুর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সময় থাকতে অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। শিশুর মোবাইল নির্ভরতা কমাতে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর উপায় অনুসরণ করতে পারেন-

হঠাৎ বন্ধ নয়, ধীরে সীমা নির্ধারণ করুন
একেবারে মোবাইল কেড়ে নিলে শিশু বিরক্ত বা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন – যেমন দিনে ১ ঘণ্টা। ধীরে ধীরে সেই সময় কমান, যাতে শিশু মানিয়ে নিতে পারে।

বিকল্প বিনোদনের ব্যবস্থা করুন
শুধু ‘মোবাইল দিও না’ বললেই হবে না। ছবি আঁকা, গল্পের বই, পাজল, বাইরে খেলা – এগুলোতে আগ্রহ তৈরি করতে হবে। শিশু যদি আনন্দের অন্য উৎস পায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই স্ক্রিনের প্রতি নির্ভরতা কমবে।

নিজের অভ্যাসেও পরিবর্তন আনুন
শিশুরা অনুকরণ করে শেখে। আপনি যদি সারাক্ষণ মোবাইলে থাকেন, তাহলে সে সেটাই স্বাভাবিক মনে করবে। তাই পরিবারের সময়গুলোতে (যেমন খাবার টেবিলে) মোবাইল দূরে রাখুন।

নির্দিষ্ট ‘নো-স্ক্রিন’ সময় ও জায়গা ঠিক করুন
ঘুমানোর আগে, খাওয়ার সময় বা পড়ার টেবিলে মোবাইল নিষিদ্ধ রাখুন। এতে শিশু বুঝতে শিখবে – সব সময় স্ক্রিন ব্যবহার করা যায় না।

সন্তানের সঙ্গে সময় কাটান
অনেক সময় একঘেয়েমি বা একাকীত্ব থেকেই শিশুরা মোবাইলে ডুবে থাকে। প্রতিদিন কিছু সময় একসঙ্গে খেলুন, গল্প করুন। এতে তাদের মানসিক চাহিদা পূরণ হবে এবং স্ক্রিনের ওপর নির্ভরতা কমবে।

পুরস্কার ও প্রশংসা ব্যবহার করুন
মোবাইল কম ব্যবহার করলে বা নিয়ম মানলে তাকে প্রশংসা করুন বা ছোট পুরস্কার দিন। এতে সে উৎসাহ পাবে এবং ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে আগ্রহী হবে।

শেষ পর্যন্ত মনে রাখতে হবে, মোবাইল সম্পূর্ণ খারাপ নয় – কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারই সমস্যার মূল। ছোটবেলা থেকেই সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বনানীতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদকসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ

কিভাবে দূর করবেন সন্তানের মোবাইল আসক্তি?

আপডেট সময় ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

খেয়াল করে দেখেছেন, সন্তান একটু ফাঁকা সময় পেলেই মোবাইল হাতে নিচ্ছে? খাওয়া, পড়া, এমনকি ঘুমানোর আগেও স্ক্রিন – সবকিছুতেই যেন মোবাইল ছাড়া চলছে না। প্রথমে বিষয়টিতে আপনার কাজে সুবিধা হলেও ধীরে ধীরে এটি অভ্যাসে পরিণত হয়, যা শিশুর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সময় থাকতে অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। শিশুর মোবাইল নির্ভরতা কমাতে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর উপায় অনুসরণ করতে পারেন-

হঠাৎ বন্ধ নয়, ধীরে সীমা নির্ধারণ করুন
একেবারে মোবাইল কেড়ে নিলে শিশু বিরক্ত বা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন – যেমন দিনে ১ ঘণ্টা। ধীরে ধীরে সেই সময় কমান, যাতে শিশু মানিয়ে নিতে পারে।

বিকল্প বিনোদনের ব্যবস্থা করুন
শুধু ‘মোবাইল দিও না’ বললেই হবে না। ছবি আঁকা, গল্পের বই, পাজল, বাইরে খেলা – এগুলোতে আগ্রহ তৈরি করতে হবে। শিশু যদি আনন্দের অন্য উৎস পায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই স্ক্রিনের প্রতি নির্ভরতা কমবে।

নিজের অভ্যাসেও পরিবর্তন আনুন
শিশুরা অনুকরণ করে শেখে। আপনি যদি সারাক্ষণ মোবাইলে থাকেন, তাহলে সে সেটাই স্বাভাবিক মনে করবে। তাই পরিবারের সময়গুলোতে (যেমন খাবার টেবিলে) মোবাইল দূরে রাখুন।

নির্দিষ্ট ‘নো-স্ক্রিন’ সময় ও জায়গা ঠিক করুন
ঘুমানোর আগে, খাওয়ার সময় বা পড়ার টেবিলে মোবাইল নিষিদ্ধ রাখুন। এতে শিশু বুঝতে শিখবে – সব সময় স্ক্রিন ব্যবহার করা যায় না।

সন্তানের সঙ্গে সময় কাটান
অনেক সময় একঘেয়েমি বা একাকীত্ব থেকেই শিশুরা মোবাইলে ডুবে থাকে। প্রতিদিন কিছু সময় একসঙ্গে খেলুন, গল্প করুন। এতে তাদের মানসিক চাহিদা পূরণ হবে এবং স্ক্রিনের ওপর নির্ভরতা কমবে।

পুরস্কার ও প্রশংসা ব্যবহার করুন
মোবাইল কম ব্যবহার করলে বা নিয়ম মানলে তাকে প্রশংসা করুন বা ছোট পুরস্কার দিন। এতে সে উৎসাহ পাবে এবং ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে আগ্রহী হবে।

শেষ পর্যন্ত মনে রাখতে হবে, মোবাইল সম্পূর্ণ খারাপ নয় – কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারই সমস্যার মূল। ছোটবেলা থেকেই সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।