ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চলতি অর্থবছর রেমিট্যান্স বেড়েছে ২২.৯ শতাংশ Logo রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে সংসদে হট্টগোল, ওয়াকআউট করল জামায়াত জোট Logo ফরিদপুরে মাদক মামলার আসামি রব বেপারীর অত্যাচারে অতিষ্ঠে মানববন্ধন এলাকাবাসীর Logo স্পিকারের কাছ থেকে শুধু ইনসাফ আশা করছি: ডা. শফিকুর রহমান Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত ব্যারিস্টার কায়সার কামাল Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হলেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ Logo ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া রোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo প্রটোকল ছাড়াই সিংগাইরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামীকাল শুরু Logo বাংলাদেশে যানজট: উন্নয়নের শহরে স্থবিরতার গল্প
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

জেনে নিন মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার কিছু টিপস

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর ও মস্তিষ্কে কিছু পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে সঠিক জীবনযাপন করলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার গতি ধীর করা সম্ভব। একই সঙ্গে আলঝেইমার বা অন্যান্য স্মৃতিভ্রংশজনিত রোগের ঝুঁকিও কমানো যায়। বিশেষজ্ঞরা মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে কিছু সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসের ওপর জোর দেন। নিচে গুরুত্ব অনুযায়ী মস্তিষ্ক ভালো রাখার ৬টি পরামর্শ তুলে ধরা হলো-

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। ব্যায়ামের সময় মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা মস্তিষ্কের কোষের সংযোগ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। সপ্তাহে কয়েক দিন ৩০ থেকে ৬০ মিনিট ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। হাঁটা, সাঁতার কাটা, টেনিস খেলা বা হালকা দৌড়ের মতো যে কোনো মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম উপকারী।

পর্যাপ্ত ও টানা ঘুম নিশ্চিত করুন

ঘুম মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক অপ্রয়োজনীয় উপাদান দূর করে এবং স্মৃতিগুলো গুছিয়ে রাখে। এতে শেখার ক্ষমতা ও মনে রাখার শক্তি বাড়ে। প্রতিদিন রাতে টানা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ভেঙে ভেঙে ঘুম হলে মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বিশ্রাম পায় না। যারা ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন

খাদ্যাভ্যাস মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। উদ্ভিদজাত খাবার, শাকসবজি, ফলমূল, গোটা শস্য, মাছ এবং ভালো চর্বিযুক্ত খাবার মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। অলিভ অয়েলের মতো স্বাস্থ্যকর তেল এবং ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কোষের কার্যকারিতা বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন, তাদের আলঝেইমারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।

মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখুন

মস্তিষ্কও পেশির মতো। ব্যবহার না করলে এর কার্যকারিতা কমে যায়। নিয়মিত বই পড়া, শব্দছক বা সুডোকু করা, তাস খেলা বা ধাঁধা সমাধান মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। বিভিন্ন ধরনের কাজ করলে মস্তিষ্ক বেশি উপকৃত হয়। অতিরিক্ত টিভি দেখা এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এটি মস্তিষ্ককে তেমনভাবে সক্রিয় করে না।

সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখুন

পরিবার, বন্ধু ও আশপাশের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করে। একা থাকলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিকভাবে সক্রিয় মানুষদের মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে সুস্থ থাকে। তাই সুযোগ পেলেই মানুষের সঙ্গে কথা বলা ও সময় কাটানো জরুরি।

রক্তনালি ও হৃদ্স্বাস্থ্য ঠিক রাখুন

মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে রক্তনালির স্বাস্থ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে এসব সমস্যা আগেই ধরা পড়ে। কম লবণ খাওয়া, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, ব্যায়াম করা এবং ধূমপান পরিহার করা মস্তিষ্কের জন্য ভালো। অ্যালকোহল পান করলে তা সীমিত রাখা জরুরি।

মস্তিষ্ক সুস্থ রাখা কোনো কঠিন কাজ নয়। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার, মানসিক ও সামাজিক সক্রিয়তা এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিলেই মস্তিষ্ক দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব। আজ থেকেই ছোট ছোট অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে ভবিষ্যতে স্মৃতিশক্তি ও মানসিক সক্ষমতা বজায় রাখা অনেক সহজ হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চলতি অর্থবছর রেমিট্যান্স বেড়েছে ২২.৯ শতাংশ

জেনে নিন মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার কিছু টিপস

আপডেট সময় ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর ও মস্তিষ্কে কিছু পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে সঠিক জীবনযাপন করলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার গতি ধীর করা সম্ভব। একই সঙ্গে আলঝেইমার বা অন্যান্য স্মৃতিভ্রংশজনিত রোগের ঝুঁকিও কমানো যায়। বিশেষজ্ঞরা মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে কিছু সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসের ওপর জোর দেন। নিচে গুরুত্ব অনুযায়ী মস্তিষ্ক ভালো রাখার ৬টি পরামর্শ তুলে ধরা হলো-

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। ব্যায়ামের সময় মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা মস্তিষ্কের কোষের সংযোগ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। সপ্তাহে কয়েক দিন ৩০ থেকে ৬০ মিনিট ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। হাঁটা, সাঁতার কাটা, টেনিস খেলা বা হালকা দৌড়ের মতো যে কোনো মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম উপকারী।

পর্যাপ্ত ও টানা ঘুম নিশ্চিত করুন

ঘুম মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক অপ্রয়োজনীয় উপাদান দূর করে এবং স্মৃতিগুলো গুছিয়ে রাখে। এতে শেখার ক্ষমতা ও মনে রাখার শক্তি বাড়ে। প্রতিদিন রাতে টানা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ভেঙে ভেঙে ঘুম হলে মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বিশ্রাম পায় না। যারা ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন

খাদ্যাভ্যাস মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। উদ্ভিদজাত খাবার, শাকসবজি, ফলমূল, গোটা শস্য, মাছ এবং ভালো চর্বিযুক্ত খাবার মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। অলিভ অয়েলের মতো স্বাস্থ্যকর তেল এবং ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কোষের কার্যকারিতা বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন, তাদের আলঝেইমারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।

মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখুন

মস্তিষ্কও পেশির মতো। ব্যবহার না করলে এর কার্যকারিতা কমে যায়। নিয়মিত বই পড়া, শব্দছক বা সুডোকু করা, তাস খেলা বা ধাঁধা সমাধান মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। বিভিন্ন ধরনের কাজ করলে মস্তিষ্ক বেশি উপকৃত হয়। অতিরিক্ত টিভি দেখা এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এটি মস্তিষ্ককে তেমনভাবে সক্রিয় করে না।

সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখুন

পরিবার, বন্ধু ও আশপাশের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করে। একা থাকলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিকভাবে সক্রিয় মানুষদের মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে সুস্থ থাকে। তাই সুযোগ পেলেই মানুষের সঙ্গে কথা বলা ও সময় কাটানো জরুরি।

রক্তনালি ও হৃদ্স্বাস্থ্য ঠিক রাখুন

মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে রক্তনালির স্বাস্থ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে এসব সমস্যা আগেই ধরা পড়ে। কম লবণ খাওয়া, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, ব্যায়াম করা এবং ধূমপান পরিহার করা মস্তিষ্কের জন্য ভালো। অ্যালকোহল পান করলে তা সীমিত রাখা জরুরি।

মস্তিষ্ক সুস্থ রাখা কোনো কঠিন কাজ নয়। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার, মানসিক ও সামাজিক সক্রিয়তা এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিলেই মস্তিষ্ক দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব। আজ থেকেই ছোট ছোট অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে ভবিষ্যতে স্মৃতিশক্তি ও মানসিক সক্ষমতা বজায় রাখা অনেক সহজ হবে।