ঢাকা , বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo তাহলে কি বিশ্বকাপ দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন ভারতীয়রা? Logo এবার অস্ট্রিয়ার পথে ‘রইদ’ Logo সবুজবাগ থানা পুলিশের অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও মোটরসাইকেলসহ তিন ছিনতাইকারী গ্রেফতার Logo বে টার্মিনাল প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলার দিতে আগ্রহী সিঙ্গাপুর Logo ডুয়েট ক্যাম্পাসে সর্বাত্মক শাটডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে Logo দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির আভাস, খুলনা বিভাগে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত Logo শিশুদের সান্নিধ্যে প্রাণবন্ত মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী Logo সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা ব্যবস্থা নেয় বিজিবি Logo মার্কিন ক্যালিফোর্নিয়ার এক মসজিদে বন্দুক হামলায় নিহত পাঁচজন Logo ফুটপাত হকারদের বরাদ্দকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

বে টার্মিনাল প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলার দিতে আগ্রহী সিঙ্গাপুর

চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল আলোচিত বে টার্মিনাল প্রকল্পে বড় ধরনের বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়বে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লো এ আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ এখন আগের চেয়ে অনেক উন্নত এবং বে টার্মিনাল প্রকল্পকে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে।

প্রস্তাবিত বে টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের পেছন থেকে রাণী রাসমনি ঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকায় নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে বড় জাহাজ ভেড়ানোর সুবিধা তৈরির পাশাপাশি আধুনিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লো বলেন, “প্রায় ৮০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এ বিনিয়োগ বাংলাদেশের বাণিজ্য অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে আরও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।”

তিনি আরও জানান, বে টার্মিনাল চালু হলে বন্দরের কার্যক্ষমতা বাড়বে, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং ডেমারেজ খরচ হ্রাস পাবে। এতে রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যবসায়িক ব্যয়ও কমবে।

বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরেই বে টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি একটি মেগা অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে একাধিক টার্মিনাল থাকবে। বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়নে প্রকল্পের প্রাথমিক অবকাঠামো উন্নয়ন এগিয়ে যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ছাড়া বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের গতি আরও বাড়ানো সম্ভব নয়। বে টার্মিনাল চালু হলে আঞ্চলিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। তিনি বলেন, কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস এবং বন্দর অবকাঠামো খাতে বিদেশি বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

বৈঠকে আরও আলোচনা হয় কৃষিপণ্য রপ্তানি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব শিল্প নিয়ে। সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

ডেরেক লো বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার কারণে সিঙ্গাপুর বিভিন্ন দেশ থেকে তাজা পণ্য আমদানি করে থাকে। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাময় উৎস হতে পারে। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে বে টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পোর্ট অপারেটরদের আগ্রহ রয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক পিএসএ ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু বন্দর নয়, পুরো দেশের লজিস্টিকস ও রপ্তানি খাতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

তাহলে কি বিশ্বকাপ দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন ভারতীয়রা?

বে টার্মিনাল প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলার দিতে আগ্রহী সিঙ্গাপুর

আপডেট সময় ৫ ঘন্টা আগে

চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল আলোচিত বে টার্মিনাল প্রকল্পে বড় ধরনের বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়বে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লো এ আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ এখন আগের চেয়ে অনেক উন্নত এবং বে টার্মিনাল প্রকল্পকে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে।

প্রস্তাবিত বে টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের পেছন থেকে রাণী রাসমনি ঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকায় নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে বড় জাহাজ ভেড়ানোর সুবিধা তৈরির পাশাপাশি আধুনিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লো বলেন, “প্রায় ৮০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এ বিনিয়োগ বাংলাদেশের বাণিজ্য অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে আরও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।”

তিনি আরও জানান, বে টার্মিনাল চালু হলে বন্দরের কার্যক্ষমতা বাড়বে, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং ডেমারেজ খরচ হ্রাস পাবে। এতে রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যবসায়িক ব্যয়ও কমবে।

বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরেই বে টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি একটি মেগা অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে একাধিক টার্মিনাল থাকবে। বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়নে প্রকল্পের প্রাথমিক অবকাঠামো উন্নয়ন এগিয়ে যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ছাড়া বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের গতি আরও বাড়ানো সম্ভব নয়। বে টার্মিনাল চালু হলে আঞ্চলিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। তিনি বলেন, কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস এবং বন্দর অবকাঠামো খাতে বিদেশি বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

বৈঠকে আরও আলোচনা হয় কৃষিপণ্য রপ্তানি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব শিল্প নিয়ে। সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

ডেরেক লো বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার কারণে সিঙ্গাপুর বিভিন্ন দেশ থেকে তাজা পণ্য আমদানি করে থাকে। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাময় উৎস হতে পারে। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে বে টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পোর্ট অপারেটরদের আগ্রহ রয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক পিএসএ ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু বন্দর নয়, পুরো দেশের লজিস্টিকস ও রপ্তানি খাতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।