ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বনানীতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদকসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ Logo মধ্যপ্রাচ্য সংকট চলাকালীন ভারত সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ঈদুল আজহা উপলক্ষে কর্মীদের জন্য ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা Logo সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন: মির্জা ফখরুল Logo ডিবির অভিযানে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ লেনদেন চক্রের ৬ চীনা নাগরিকসহ ৯ জন আটক Logo রাজশাহীর লিচু চাষ ঘিরে ৫৬ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা Logo ক্রমেই বাড়ছে বরিশালে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা Logo ২০২৭ সালের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ Logo ৬ মাসে ভোটার বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে, মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ Logo সিটি নির্বাচনে জামায়াতের একক কৌশল, ঘোষণা ১২ মেয়র প্রার্থী
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

অর্থনীতির মূলধারায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

মূলধারার অর্থনীতির বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার ভাষায়, শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা জরুরি।

রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘রেইজ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনানুষ্ঠানিক খাতের উন্নয়ন এবং প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করেই আয়োজন করা হয় এ অনুষ্ঠান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “যারা এখনো মূলধারার অর্থনীতির বাইরে রয়েছেন, তাদের অর্থনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসা সরকারের লক্ষ্য। নাগরিক হিসেবে অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ সবার অধিকার।” তিনি আরও বলেন, সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষ উন্নয়নের সুফল পায়।

পিকেএসএফের কার্যক্রমের প্রশংসা করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি অনানুষ্ঠানিক খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে এবং মানদণ্ড পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না।

নারীর অর্থনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, নারীরা পরিবার ব্যবস্থাপনা ও সঞ্চয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। “ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তাদের কিছুটা আর্থিক স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে,” বলেন তিনি। পাশাপাশি কৃষক কার্ডের কথাও উল্লেখ করে জানান, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হবে।

দেশের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি, যা “অত্যন্ত লজ্জাজনক”। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তার মতে, জনগণের নাগালের মধ্যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবা পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

হস্তশিল্প, সংগীত, থিয়েটার ও খেলাধুলার মতো খাতগুলোতেও বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দেখছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি এখনও আন্তর্জাতিক বাজারে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। কারণ হিসেবে তিনি পরিকল্পনার অভাব, দুর্বল বিপণন কৌশল এবং আধুনিক ডিজাইনের ঘাটতির কথা তুলে ধরেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “একটি ভালো ডিজাইনই কোনো পণ্যের মূল্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।” আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপরও জোর দেন তিনি। এশিয়ার অনেক দেশ অ্যামাজনের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের সংস্কৃতি ও পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বনানীতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদকসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ

অর্থনীতির মূলধারায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

মূলধারার অর্থনীতির বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার ভাষায়, শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা জরুরি।

রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘রেইজ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনানুষ্ঠানিক খাতের উন্নয়ন এবং প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করেই আয়োজন করা হয় এ অনুষ্ঠান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “যারা এখনো মূলধারার অর্থনীতির বাইরে রয়েছেন, তাদের অর্থনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসা সরকারের লক্ষ্য। নাগরিক হিসেবে অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ সবার অধিকার।” তিনি আরও বলেন, সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষ উন্নয়নের সুফল পায়।

পিকেএসএফের কার্যক্রমের প্রশংসা করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি অনানুষ্ঠানিক খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে এবং মানদণ্ড পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না।

নারীর অর্থনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, নারীরা পরিবার ব্যবস্থাপনা ও সঞ্চয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। “ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তাদের কিছুটা আর্থিক স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে,” বলেন তিনি। পাশাপাশি কৃষক কার্ডের কথাও উল্লেখ করে জানান, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হবে।

দেশের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি, যা “অত্যন্ত লজ্জাজনক”। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তার মতে, জনগণের নাগালের মধ্যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবা পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

হস্তশিল্প, সংগীত, থিয়েটার ও খেলাধুলার মতো খাতগুলোতেও বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দেখছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি এখনও আন্তর্জাতিক বাজারে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। কারণ হিসেবে তিনি পরিকল্পনার অভাব, দুর্বল বিপণন কৌশল এবং আধুনিক ডিজাইনের ঘাটতির কথা তুলে ধরেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “একটি ভালো ডিজাইনই কোনো পণ্যের মূল্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।” আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপরও জোর দেন তিনি। এশিয়ার অনেক দেশ অ্যামাজনের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের সংস্কৃতি ও পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।