ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

বিভ্রান্তি ছড়ানো শক্তি এখনো সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী

যশোরে আয়োজিত এক জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের শান্তি নষ্ট করে এমন কোনো কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত এই জনসভায় তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল সক্রিয়ভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং অতীতেও স্বাধীনতার সময় জনগণকে বিভ্রান্ত করার মতো শক্তি এখনো তা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি দাবি করেন, বিএনপি জনগণের আস্থার ওপর ভিত্তি করেই রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার ভাষায়, “দেশের মানুষ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন চায়। বিএনপি সেই প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে।” জনসভায় তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনই বিএনপির শক্তি এবং সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়েই দেশের অসমাপ্ত কাজ শেষ করা হবে।

এর আগে বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মহল ফ্যাসিবাদের অনুসারীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে এবং রাজনৈতিক স্বার্থে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সংস্কৃতি এখনো চলছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা হবে। তার দেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেয়েদের উচ্চশিক্ষা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি উপবৃত্তির ব্যবস্থার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে অতীতে মেট্রিক ও ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাকে বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এবার উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ছাড়াও কৃষি, কর্মসংস্থান ও প্রবাসী শ্রমবাজার নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং কৃষক কার্ডের কাজ চলছে। এছাড়া বন্ধ কলকারখানা চালু এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের জন্য কাজ করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা জনগণের শান্তি নষ্ট করবে বা অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে, তাদের কোনোভাবেই সুযোগ দেওয়া হবে না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সামনে রেখে বিএনপির এই জনসভা ও তারেক রহমানের বক্তব্য দলীয় অবস্থানকে আরও শক্ত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সরকারিভাবে এসব বক্তব্য নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

বিভ্রান্তি ছড়ানো শক্তি এখনো সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় এক মিনিট আগে

যশোরে আয়োজিত এক জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের শান্তি নষ্ট করে এমন কোনো কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত এই জনসভায় তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল সক্রিয়ভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং অতীতেও স্বাধীনতার সময় জনগণকে বিভ্রান্ত করার মতো শক্তি এখনো তা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি দাবি করেন, বিএনপি জনগণের আস্থার ওপর ভিত্তি করেই রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার ভাষায়, “দেশের মানুষ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন চায়। বিএনপি সেই প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে।” জনসভায় তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনই বিএনপির শক্তি এবং সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়েই দেশের অসমাপ্ত কাজ শেষ করা হবে।

এর আগে বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মহল ফ্যাসিবাদের অনুসারীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে এবং রাজনৈতিক স্বার্থে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সংস্কৃতি এখনো চলছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা হবে। তার দেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেয়েদের উচ্চশিক্ষা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি উপবৃত্তির ব্যবস্থার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে অতীতে মেট্রিক ও ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাকে বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এবার উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ছাড়াও কৃষি, কর্মসংস্থান ও প্রবাসী শ্রমবাজার নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং কৃষক কার্ডের কাজ চলছে। এছাড়া বন্ধ কলকারখানা চালু এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের জন্য কাজ করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা জনগণের শান্তি নষ্ট করবে বা অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে, তাদের কোনোভাবেই সুযোগ দেওয়া হবে না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সামনে রেখে বিএনপির এই জনসভা ও তারেক রহমানের বক্তব্য দলীয় অবস্থানকে আরও শক্ত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সরকারিভাবে এসব বক্তব্য নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।