বাজারে গেলে এখন আর টাটকা সবজি দেখে মন ভালো হয় না, বরং এক অজানা আতঙ্ক কাজ করে। চকচকে আপেল কিংবা লাল টকটকে টমেটো দেখে মনে হয়—এর ভেতরে কি জীবন আছে নাকি লুকিয়ে আছে মরণব্যাধি? বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘নিরাপদ খাদ্য’ শব্দটি এখন কেবল বইয়ের পাতায় বা সেমিনারের বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের পাতে এখন পুষ্টির চেয়ে বিষই উঠছে বেশি।
মুনাফার লোভে লাশের মিছিল
একজন ব্যবসায়ী যখন দুধে ফরমালিন মেশান বা মশলায় কাপড়ের রং মেশান, তিনি কি একবারও ভাবেন এই খাবারটি তার নিজের সন্তানও খেতে পারে? এই যে নৈতিকতার চরম অবক্ষয়, এর পেছনে দায়ী মূলত দ্রুত বড়লোক হওয়ার অসুস্থ মানসিকতা। মাছ, মাংস থেকে শুরু করে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ—ভেজালমুক্ত কোনো পণ্য খুঁজে পাওয়া এখন যেন খড়ের গাদায় সুই খোঁজার মতো কঠিন। আমাদের রান্নাঘরগুলো এখন এক একটা ছোটখাটো ল্যাবরেটরি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিদিন আমরা অজান্তেই স্লো-পয়জনিংয়ের শিকার হচ্ছি।
আইন আছে, প্রয়োগ কোথায়?
বাংলাদেশে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’ আছে, আছে মোবাইল কোর্টের অভিযানও। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাতে কি পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়েছে? জেল-জরিমানা হওয়ার পরও কিছুদিন পর আবার সেই একই চিত্র দেখা যায়। বড় বড় সিন্ডিকেট বা অসাধু আমদানিকারকরা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। শুধু চুনোপুঁটি ধরলে এই মহামারি থামানো সম্ভব নয়; শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে।
আমাদের করণীয় কী?
কেবল প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। একজন ভোক্তা হিসেবে আমাদেরও সচেতন হতে হবে। অতি উজ্জ্বল বা কৃত্রিমভাবে পাকা ফল বর্জন করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আর সরকারকে বিএসটিআই বা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে, যাতে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা যায়।
খাদ্য কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস যেন কেউ না পায়, সরকারকে সেই ইস্পাতকঠিন বার্তা দিতে হবে। কারণ, বিষাক্ত খাদ্য খেয়ে একটি জাতি অসুস্থ হয়ে পড়লে সেই জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যার ঘোষণা ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর
মোঃ মাসুম আহমেদ 


















