ঢাকা , বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মাসের পরের অংশে ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি ভয়াবহ কালবৈশাখী আঘাত আনতে পারে Logo পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ২,০২৮ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প নিয়েছে সরকার Logo গ্রীষ্মের দাবদাহে আরাম দেবে ঠান্ডা ডাব-কফির শেক Logo দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো আবার সচল হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে Logo ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম-এ আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন Logo প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে চলছে একনেকের বৈঠক Logo উচ্ছেদের কিছুদিন পরই ফের দখলে চলে যাচ্ছে ফুটপাত, থামছে না হকারদের Logo সিলেটে আলোচিত শিশু ফাহিমা হত্যার রোহমর্ষক বর্ণনা দিলো হত্যাকারী চাচা জাকির Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে শিশুদের মাদক থেকে বিরত রাখা জরুরি Logo খুলনা অঞ্চলে বোরো ফসল ঘরে তুলতে পুরোদমে চলছে কৃষকদের
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে কাজুবাদাম চাষে মিলেছে সফলতা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

পার্বত্যঞ্চলে কৃষকদের বাতিঘর হিসেবে সু-পরিচিত রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কৃষি বিজ্ঞানীরা এবার কাজুবাদাম চাষে সফলতা অর্জন করেছেন।

গবেষণা কেন্দ্রের ২ একর এলাকায় কাজু বাদামের চাষ করা হয়েছে। এবার গাছগুলোতে বেশ ফল এসেছে।

আজ সোমবার সকালে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারিভাবে লাগানো কাজুবাদাম গাছগুলোতে ফল ধরেছে। এ যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড়ের বুকে সবুজ ক্ষেতে কাজুবাদামের সমাহার।

এ বিষয়ে রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান বাসসকে বলেন, ২০১৯ সালে ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া এবং বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কাজুবাদামের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ২ একর জমিতে রোপণ করা হয়।

রোপণের ৩ বছর পর ২০২২ সালে প্রথম ফল ধরে। বর্তমানে গাছগুলোর বয়স ৭ বছরের বেশি। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে বেশি করে ফল ধরছে প্রতিটি কাজুবাদাম গাছে।

তিনি আরও বলেন, কাজুবাদাম বিশ্বের বাদাম জাতীয় ফসলের মধ্যে প্রথমস্থান দখল করে আছে। এর প্রতিটি গাছে ২০ থেকে ৩০ কেজি ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি ফলের ওজন গড়ে ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতিটি কাজুবাদাম নাটের ওজন ৫ থেকে ১০ গ্রাম হয়ে থাকে।

কাজুবাদামে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আমিষ, চর্বি, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি। কাজুবাদামে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পলিফেনল ও ক্যারিটনয়েড আছে। যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ও মস্তিস্কের শক্তি বৃদ্ধি করে।

এতে খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। ব্লাড প্রেসার ও ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে কাজুবাদামের ভূমিকা অপরিসীম।

রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানিরা বলেন, বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় ৫ লাখ হেক্টর জমি অনাবাদী রয়েছে।

এর মধ্যে যদি ১ লাখ হেক্টর জমিতে কাজুবাদাম চাষ করা যায় তাহলে ১ লাখ টন কাজুবাদাম উৎপাদন করা সম্ভব। দেশে ভালো মানের কাজুবাদাম উৎপাদন করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা যেমন সাশ্রয় হবে তেমনি কাজুবাদাম রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে।

এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং বিশেষ করে নারীরা স্বাবলম্বী হতে পারবে। পাহাড়ে সম্ভাবনাময় কাজু বাদাম চাষের বিস্তৃতি বাড়াতে এখন প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাসের পরের অংশে ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি ভয়াবহ কালবৈশাখী আঘাত আনতে পারে

রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে কাজুবাদাম চাষে মিলেছে সফলতা

আপডেট সময় ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

পার্বত্যঞ্চলে কৃষকদের বাতিঘর হিসেবে সু-পরিচিত রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কৃষি বিজ্ঞানীরা এবার কাজুবাদাম চাষে সফলতা অর্জন করেছেন।

গবেষণা কেন্দ্রের ২ একর এলাকায় কাজু বাদামের চাষ করা হয়েছে। এবার গাছগুলোতে বেশ ফল এসেছে।

আজ সোমবার সকালে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারিভাবে লাগানো কাজুবাদাম গাছগুলোতে ফল ধরেছে। এ যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড়ের বুকে সবুজ ক্ষেতে কাজুবাদামের সমাহার।

এ বিষয়ে রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান বাসসকে বলেন, ২০১৯ সালে ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া এবং বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কাজুবাদামের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ২ একর জমিতে রোপণ করা হয়।

রোপণের ৩ বছর পর ২০২২ সালে প্রথম ফল ধরে। বর্তমানে গাছগুলোর বয়স ৭ বছরের বেশি। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে বেশি করে ফল ধরছে প্রতিটি কাজুবাদাম গাছে।

তিনি আরও বলেন, কাজুবাদাম বিশ্বের বাদাম জাতীয় ফসলের মধ্যে প্রথমস্থান দখল করে আছে। এর প্রতিটি গাছে ২০ থেকে ৩০ কেজি ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি ফলের ওজন গড়ে ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতিটি কাজুবাদাম নাটের ওজন ৫ থেকে ১০ গ্রাম হয়ে থাকে।

কাজুবাদামে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আমিষ, চর্বি, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি। কাজুবাদামে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পলিফেনল ও ক্যারিটনয়েড আছে। যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ও মস্তিস্কের শক্তি বৃদ্ধি করে।

এতে খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। ব্লাড প্রেসার ও ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে কাজুবাদামের ভূমিকা অপরিসীম।

রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানিরা বলেন, বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় ৫ লাখ হেক্টর জমি অনাবাদী রয়েছে।

এর মধ্যে যদি ১ লাখ হেক্টর জমিতে কাজুবাদাম চাষ করা যায় তাহলে ১ লাখ টন কাজুবাদাম উৎপাদন করা সম্ভব। দেশে ভালো মানের কাজুবাদাম উৎপাদন করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা যেমন সাশ্রয় হবে তেমনি কাজুবাদাম রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে।

এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং বিশেষ করে নারীরা স্বাবলম্বী হতে পারবে। পাহাড়ে সম্ভাবনাময় কাজু বাদাম চাষের বিস্তৃতি বাড়াতে এখন প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ।