ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নে সরকারি চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বাবলাতলা এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরিব ও অসহায়দের মাঝে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সরকারি চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। তবে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল দেওয়া হচ্ছে— এমন অভিযোগে এলাকায় বেশ কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ নিয়ে আকরাম আলী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাল কম দেওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদে তদন্ত টিম পাঠানো হয়। তবে সে সময় পরিষদ কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি।
এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শাহাবুদ্দিন ও সোহাগ চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সরকারি চাল বিতরণের এই ক্ষোভকে কেন্দ্র করে সেই পুরোনো বিরোধ নতুন করে উসকে ওঠে।
শুক্রবার বিকেলে বাবলাতলা এলাকায় এই চালের ঘাটতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী চলা এই হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিন জানান, “সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার মূল কারণ খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ফরিদপুরে সংঘর্ষে আহত ১০, বাড়িঘর ভাঙচুর
শফিউল মঞ্জুর ফরিদ 


















