অনাবিল আত্মত্যাগ, ভক্তি ও পরম করুণাময়ের প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত পবিত্র ঈদুল আজহা। এই আনন্দঘন ও পুণ্যময় মুহূর্তে ‘দৈনিক আজাদ বাণী’ পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের সকল সম্মানিত পাঠক, লেখক, শুভানুধ্যায়ী এবং সমগ্র দেশবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।
ঈদুল আজহা কেবলই আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর মূল চেতনা হলো ত্যাগের মাধ্যমে অন্তরের পঙ্কিলতা ও অহংকারকে বিসর্জন দেওয়া। পশুর কোরবানির পাশাপাশি নিজের ভেতরের কুপ্রবৃত্তিকে কোরবানি দেওয়াই এই উৎসবের সুমহান শিক্ষা। তবে উৎসবের এই আনন্দ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন আমাদের ব্যক্তিগত ইবাদত অন্য কোনো নাগরিকের কষ্টের কারণ হবে না।
প্রতি বছরই কোরবানির পর যত্রতত্র বর্জ্য ও রক্ত ফেলে রাখার কারণে আমাদের চারপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়। বর্ষার এই মৌসুমে সামান্য অসচেতনতাও ছড়িয়ে দিতে পারে ডেঙ্গুসহ নানা মারাত্মক রোগব্যাধি। তাই পশু জবাইয়ের পর দ্রুত রক্ত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা, পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার ছিটানো এবং বর্জ্য সুনির্দিষ্ট ব্যাগে ভরে নির্ধারিত স্থানে রাখা আমাদের প্রত্যেকের নাগরিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। আপনার সচেতনতাই পারে আপনার পরিবার ও প্রতিবেশীকে একটি সুস্থ-সুরক্ষিত পরিবেশ উপহার দিতে।
পাশাপাশি, বর্তমানের আধুনিক ও ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোরবানির হাটে কেনাকাটা ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে। হাটের ভিড়ে পকেটমার, অজ্ঞান পার্টি বা জাল টাকার খপ্পর থেকে বাঁচতে ক্যাশলেস বা ডিজিটাল পেমেন্ট এবং স্মার্ট হাটের সুবিধা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।
আসুন, ত্যাগের সুমহান আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ঈদ উদযাপন করি। ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি প্রাণে।
— সম্পাদক
আবাক পৃথিবী

ত্যাগের মহিমা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সচেতনতার ঈদ
মোঃ মাসুম আহমেদ 



















