ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বেআইনি অস্ত্রের দাপটে নাজুক হয়ে পড়ছে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা Logo কালশীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনল ফায়ার সার্ভিস Logo ঈদযাত্রায় নারীদের জন্য ট্রেনে বিশেষ কোচের ব্যবস্থা Logo ‘মাইকেল’র সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আসছে ‘মাইকেল ২’ Logo বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় জায়গা করে নিলেন মেসি Logo জমে উঠেছে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাট, বাড়ছে ক্রেতার চাপ Logo এআই চিপের উচ্চ চাহিদায় সিঙ্গাপুরের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৬ শতাংশ Logo ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিতে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ বৈষম্য Logo জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে থাকবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, প্রস্তুতি শেষ Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য বৈঠক
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

সামুদের ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থানে প্রবেশে কেন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল?

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: সৌদি আরব সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা আল-উলার নিকটবর্তী একটি প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহাসিক স্থানকে বৈশ্বিক পর্যটন গন্তব্যে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করছে। এর উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের কাছে নিজেদের আরও উন্মুক্ত করা এবং তেলের বাইরে অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করা। হেগরা বা আল-হিজর নামে পরিচিত এই রহস্যময় প্রাচীন স্থানটি বিশাল পাহাড় ও অপূর্ব সৌন্দর্যের কাঠামো দিয়ে ভরপুর। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই নির্মাণশৈলী অটুট অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্বের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পুরাতত্ত্ববিদদের মতে, পাহাড় কেটে যেভাবে এসব নির্মাণ করা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের কাজ ছিল না, কারণ আজকের যুগে এমন কাজ করতে আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী যন্ত্রপাতি লাগে।

মাদায়েনে সালেহ বা সামুদ আবাসভূমি

ইসলামে এই স্থানটি মাদায়েন সালেহ নামে পরিচিত, অর্থাৎ নবী সালেহ (আ.)-এর জাতি সামুদের আবাসস্থল। তারা ছিলেন অসাধারণ শক্তির অধিকারী এবং পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি বানানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ। আজও তাদের সেই নিদর্শনগুলো দৃশ্যমান। বলা হয়, এই এলাকা একসময় অত্যন্ত উর্বর ও সবুজ ছিল। প্রতি বছর পর্যাপ্ত শস্য ও ফসল উৎপন্ন হতো। কিন্তু এই প্রাচুর্য সামুদের ধনীদের মধ্যে অহংকার ও নিষ্ঠুরতা সৃষ্টি করে। তারা গরিবদের অত্যাচার ও হত্যা করতে শুরু করে।

নবী সালেহ (আ.)-এর দাওয়াত

তাদের হেদায়েতের জন্য আল্লাহ নবী সালেহ (আ.)-কে পাঠান। তিনি তাদেরকে আল্লাহর পথে ডাকেন। কুরআনে এভাবে উল্লেখ রয়েছে, স্মরণ করো, তিনি তোমাদেরকে আদ জাতির পর উত্তরসূরি করেছেন এবং তোমাদেরকে ভূপৃষ্ঠে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তোমরা সমতলভূমিতে প্রাসাদ নির্মাণ কর এবং পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তৈরি করো। সুতরাং আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো এবং পৃথিবীতে অপকর্ম ছড়িয়ে বেড়িও না। (সুরা আল-আরাফ, আয়াত ৭৪)

কিন্তু সালেহ (আ.)-এর দাওয়াত গ্রহণ না করে তারা তার সামনে একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল। তারা বলল, পাত্থর থেকে একটি উটনী বের করে দেখাও, যদি সত্যিই আপনি নবী হন। সালেহ (আ.) আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন, আল্লাহর কুদরতিতে পাহাড় ফেটে একটি উটনী বের হয়ে এলো। উটনীটি পরে একটি বাচ্চার জন্মও দেয়। সালেহ (আ.) তাদের নির্দেশ দেন, এই উটনীকে সম্মান করতে এবং কষ্ট না দিতে। তাদের মধ্যে কিছু লোক ঈমান আনল, কিন্তু বেশিরভাগই ঈমান আনল না। শেষ পর্যন্ত তাদের দুইজন সেই নিরপরাধ উটনীকে হত্যা করে। এর পরিণতিতে আল্লাহ তাদের ওপর কঠিন শাস্তি পাঠান। গভীর রাতে ভূমিকম্প তাদের গ্রাস করে নেয়, এবং পুরো জাতি ধ্বংস হয়ে যায়। কেউ আর জেগে ওঠেনি। (সুরা আল-আরাফ আয়াত ৭৮)

আল্লাহ বলেন, তাদেরকে ভূমিকম্প আঘাত করল, ফলে তারা নিজ নিজ ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে থাকল। হাদিসের ভাষায় এ জায়গাটার নাম আল-হিজর। কোরআনের ভাষায় এ এলাকার নাম মাদায়েনে সালেহ। রসুল সা. স্বাভাবিকভাবে এসব এলাকায় যেতে নিষেধ করেছিলেন। বুখারি শরিফের হাদিস থেকে জানা যায়, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরবাসীগণ সম্পর্কে সাহাবায়ে কিরামদের বললেন, তোমরা ক্রন্দনরত অবস্থা ব্যতিরেকে এ জাতির এলাকায় প্রবেশ করবে না। যদি তোমাদের ক্রন্দন না আসে, তবে তোমরা তাদের এলাকায় প্রবেশই করবে না। হয়ত, তাদের ওপর যা ঘটেছিল তা তোমাদের ওপরও ঘটতে পারে। (বুখারি ৪৭০২)

আল্লাহ রব্বুল আলামিন শক্তিধর সামদ জাতির পাথরে তৈরি করা বাড়ি ঘর বিশ্ব মানুষের জন্য রেখে দিয়েছেন। যেনো মানুষ এসব দেখে আল্লাহর নাফরমানি থেকে বিরত থাকে। এজন্যই রসুল সা. এসব এলাকায় যেতে নিষেধ করেছেন। যদি আল্লাহর নাফরমানি কতটা ভয়ংকর এটা জানে, আল্লাহর শাস্তির ভয়ে অন্তর ভীত হয়, কান্না আসে তাহলেই যেতে বলেছেন তিনি। অথচ সৌদি আরব রাজ্যের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করতে একটি বৈশ্বিক পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করেছে ঐতিহাসিক এই শহরকে। ফলে এটি হয়ে উঠেছে জীবন্ত যাদুঘরে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বেআইনি অস্ত্রের দাপটে নাজুক হয়ে পড়ছে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সামুদের ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থানে প্রবেশে কেন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল?

আপডেট সময় ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: সৌদি আরব সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা আল-উলার নিকটবর্তী একটি প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহাসিক স্থানকে বৈশ্বিক পর্যটন গন্তব্যে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করছে। এর উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের কাছে নিজেদের আরও উন্মুক্ত করা এবং তেলের বাইরে অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করা। হেগরা বা আল-হিজর নামে পরিচিত এই রহস্যময় প্রাচীন স্থানটি বিশাল পাহাড় ও অপূর্ব সৌন্দর্যের কাঠামো দিয়ে ভরপুর। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই নির্মাণশৈলী অটুট অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্বের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পুরাতত্ত্ববিদদের মতে, পাহাড় কেটে যেভাবে এসব নির্মাণ করা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের কাজ ছিল না, কারণ আজকের যুগে এমন কাজ করতে আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী যন্ত্রপাতি লাগে।

মাদায়েনে সালেহ বা সামুদ আবাসভূমি

ইসলামে এই স্থানটি মাদায়েন সালেহ নামে পরিচিত, অর্থাৎ নবী সালেহ (আ.)-এর জাতি সামুদের আবাসস্থল। তারা ছিলেন অসাধারণ শক্তির অধিকারী এবং পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি বানানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ। আজও তাদের সেই নিদর্শনগুলো দৃশ্যমান। বলা হয়, এই এলাকা একসময় অত্যন্ত উর্বর ও সবুজ ছিল। প্রতি বছর পর্যাপ্ত শস্য ও ফসল উৎপন্ন হতো। কিন্তু এই প্রাচুর্য সামুদের ধনীদের মধ্যে অহংকার ও নিষ্ঠুরতা সৃষ্টি করে। তারা গরিবদের অত্যাচার ও হত্যা করতে শুরু করে।

নবী সালেহ (আ.)-এর দাওয়াত

তাদের হেদায়েতের জন্য আল্লাহ নবী সালেহ (আ.)-কে পাঠান। তিনি তাদেরকে আল্লাহর পথে ডাকেন। কুরআনে এভাবে উল্লেখ রয়েছে, স্মরণ করো, তিনি তোমাদেরকে আদ জাতির পর উত্তরসূরি করেছেন এবং তোমাদেরকে ভূপৃষ্ঠে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তোমরা সমতলভূমিতে প্রাসাদ নির্মাণ কর এবং পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তৈরি করো। সুতরাং আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো এবং পৃথিবীতে অপকর্ম ছড়িয়ে বেড়িও না। (সুরা আল-আরাফ, আয়াত ৭৪)

কিন্তু সালেহ (আ.)-এর দাওয়াত গ্রহণ না করে তারা তার সামনে একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল। তারা বলল, পাত্থর থেকে একটি উটনী বের করে দেখাও, যদি সত্যিই আপনি নবী হন। সালেহ (আ.) আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন, আল্লাহর কুদরতিতে পাহাড় ফেটে একটি উটনী বের হয়ে এলো। উটনীটি পরে একটি বাচ্চার জন্মও দেয়। সালেহ (আ.) তাদের নির্দেশ দেন, এই উটনীকে সম্মান করতে এবং কষ্ট না দিতে। তাদের মধ্যে কিছু লোক ঈমান আনল, কিন্তু বেশিরভাগই ঈমান আনল না। শেষ পর্যন্ত তাদের দুইজন সেই নিরপরাধ উটনীকে হত্যা করে। এর পরিণতিতে আল্লাহ তাদের ওপর কঠিন শাস্তি পাঠান। গভীর রাতে ভূমিকম্প তাদের গ্রাস করে নেয়, এবং পুরো জাতি ধ্বংস হয়ে যায়। কেউ আর জেগে ওঠেনি। (সুরা আল-আরাফ আয়াত ৭৮)

আল্লাহ বলেন, তাদেরকে ভূমিকম্প আঘাত করল, ফলে তারা নিজ নিজ ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে থাকল। হাদিসের ভাষায় এ জায়গাটার নাম আল-হিজর। কোরআনের ভাষায় এ এলাকার নাম মাদায়েনে সালেহ। রসুল সা. স্বাভাবিকভাবে এসব এলাকায় যেতে নিষেধ করেছিলেন। বুখারি শরিফের হাদিস থেকে জানা যায়, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরবাসীগণ সম্পর্কে সাহাবায়ে কিরামদের বললেন, তোমরা ক্রন্দনরত অবস্থা ব্যতিরেকে এ জাতির এলাকায় প্রবেশ করবে না। যদি তোমাদের ক্রন্দন না আসে, তবে তোমরা তাদের এলাকায় প্রবেশই করবে না। হয়ত, তাদের ওপর যা ঘটেছিল তা তোমাদের ওপরও ঘটতে পারে। (বুখারি ৪৭০২)

আল্লাহ রব্বুল আলামিন শক্তিধর সামদ জাতির পাথরে তৈরি করা বাড়ি ঘর বিশ্ব মানুষের জন্য রেখে দিয়েছেন। যেনো মানুষ এসব দেখে আল্লাহর নাফরমানি থেকে বিরত থাকে। এজন্যই রসুল সা. এসব এলাকায় যেতে নিষেধ করেছেন। যদি আল্লাহর নাফরমানি কতটা ভয়ংকর এটা জানে, আল্লাহর শাস্তির ভয়ে অন্তর ভীত হয়, কান্না আসে তাহলেই যেতে বলেছেন তিনি। অথচ সৌদি আরব রাজ্যের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করতে একটি বৈশ্বিক পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করেছে ঐতিহাসিক এই শহরকে। ফলে এটি হয়ে উঠেছে জীবন্ত যাদুঘরে।