• ঢাকা, বাংলাদেশ

মুদ্রাস্ফীতি এবং বাংলাদেশ 

 obak 
23rd Jun 2023 2:10 am  |  অনলাইন সংস্করণ
হামিদুল আলম সখা : ২০২৩ সালের ১ জুন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে মাননীয় অর্থমন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল বাজেট ঘোষণার পর পত্র পত্রিকায় সাংবাদিক,লেখক, কলামিস্ট, অর্থনীতিবিদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,শিক্ষক-বুদ্ধিজীবিগণ লিখছেন অবিরত।
২০২৩-২০২৪ সালের বাজেট ৭,৬১,৭৮৫ কোটি টাকা। রাজস্ব প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৫,০৩,৯০০ কোটি টাকা।আর ঘাটতি ধরা হয়েছে ২,৫৭,৮৮৫ কোটি টাকা।
বাজেট ঘোষণার পর বিভিন্ন আলোচক,সমালোচক সভা, সেমিনার এ বাজেটের ভালো দিক ,খারাপ দিক নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।প্রতি বছরই এই বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে। বিশেষ করে বাজেটের বরাদ্দ কোন কোন খাতে কম হয়েছে ইত্যাদি নিয়ে। বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে সকল আলোচকবৃন্দ উদ্বিগ্ন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জনাব আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন,  যে  মুদ্রাস্ফীতি এসেছে তা মুদ্রা সরবরাহ থেকে আসেনি।এটা স্থানীয় পর্যায়ে মুদ্রাস্ফীতি নয়।
অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, মুদ্রাস্ফীতি কমানোর বিষয়েও আমরা কিছু দেখছি না। পৃথিবীর সব দেশ কি হাতিয়ার ব্যবহার করছে,আর আমরা কি করছি?
আমরা মুদ্রাস্ফীতির  প্রতি বছরের চিত্রের দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাই ২০১০-১১ সালে মুদ্রাস্ফীতি -১০.৯২,২০১১-১২ সালে ৮.৬৯,২০১২-১৩ সালে ৬.৭৮, ২০১৩-১৪ সালে ৭.৩৫,২০১৪-১৫ সালে ৬.৪১,২০১৫-১৬ সালে ৫.৯২,২০১৬-১৭ সালে ৫.৪৪,২০১৭-১৮ সালে ৫.৭৮,২০১৮-১৯ সালে ৫.৪৮,২০১৯-২০ সালে ৫.৬৫,২০২০-২০২১ সালে৫.৫৬,২০২১-২২ সালে ৬.১৫,২০২২-২৩ সালে ৮.৮৪।
সর্বশেষ আমরা দেখতে পাই ২০২২-২৩ অর্থ বছরে মুদ্রাস্ফীতি ৮.৮৪। অর্থমন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল বলেছেন, মুদ্রাস্ফীতি কমবে।এখন আলোচনায় আনতে হবে এই মুদ্রাস্ফীতির উর্ধ্বমুখী শুধু কি বাংলাদেশে হয়েছে না বিশ্বের সবদেশেই হয়েছে।কেন মুদ্রাস্ফীতি উর্ধ্বমুখী? আমরা সকলেই অবগত কোবিড১৯ এর কারণে সারা বিশ্ব স্থবির হয়ে গিয়েছিল। অর্থনীতি মন্দ বিরাজমান ছিল।বাণিজ্য ভারসাম্য ছিল না।ফলে বাজার ব্যবস্থায় অচল অবস্থা দেখা দিয়েছিল।এরপর দৃশ্যমান হলো রাশিয়া- ইউক্রেন এর যুদ্ধ। আবারও সারা বিশ্বে ব্যবসা,বাণিজ্যে অচলাবস্থা।অস্থির বিশ্ব।এটি বর্তমানেও দৃশ্যমান।
তারপরও বাংলাদেশ এবার যে বাজেট দিয়েছে তাকে কেউ বলেছেন উন্নয়নের বাজেট,কেউ বলেছেন মন্দা ঠেকানোর বাজেট।
পণ্য সেবার মান বেড়ে যাওয়াকে বলে মুদ্রাস্ফীতি।যা সাধারণত অতিরিক্ত মুদ্রার সরবরাহের কারণে ঘটে। বর্তমানে তীব্র জ্বালানি সংকট,খআদ্য সরবরাহ কমে যাওয়া, উৎপাদনের ব্যয় বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।আরো সহজ ভাষায় যদি বলি তবে এভাবে বলা যায়, যদি পণ্যের তুলনায় মুদ্রার সরবরাহ অনেক রেড়ে যায় অর্থাৎ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত মাত্রায় টাকা ছাপায় তখনই মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। তবে কয়েকটি পণ্য ও সেবার দাম বাড়লেই সেটাকে মুদ্রাস্ফীতি বলা যাবে না। মুদ্রাস্ফীতির প্রধান কারণ হলো মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে যাওয়া।বাজারে অর্থের পরিমাণ কমলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।এ ক্ষেত্রে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির পরিবর্তন আনলে মুদ্রাস্ফীতি রোধ হবে। মজুতদারী , অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।ফলে কস্টে থাকে সাধারণ ভোক্তা। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যুগোপদভাবে কাজ করলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং  রাজস্ব আহরণ বলশালী করা।এই দুই চ্যালেন্জ মোকাবেলা করার জন্যই সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাহসী পরিকল্পনা নিয়েছে এই অর্থ বছরের জন্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে।কেন না দেরীতে হলেও তাঁরা বাজার নির্ভর বিনিময় হার এবং সুদের করিডরের মাধ্যমে সময়োচিত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বলেছেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে দেশীয় উৎসের তহবিলের পাশাপাশি বৈদেশিক তহবিল সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
অর্থমন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল বলেন, মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে আনা সম্ভব।
দেখা যাক, বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে এনে অর্থনীতির গতি স্বাভাবিক হবে সেই প্রত্যাশায় রইলাম।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আর্কাইভ

March 2024
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031