ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বনানীতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদকসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ Logo মধ্যপ্রাচ্য সংকট চলাকালীন ভারত সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ঈদুল আজহা উপলক্ষে কর্মীদের জন্য ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা Logo সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন: মির্জা ফখরুল Logo ডিবির অভিযানে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ লেনদেন চক্রের ৬ চীনা নাগরিকসহ ৯ জন আটক Logo রাজশাহীর লিচু চাষ ঘিরে ৫৬ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা Logo ক্রমেই বাড়ছে বরিশালে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা Logo ২০২৭ সালের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ Logo ৬ মাসে ভোটার বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে, মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ Logo সিটি নির্বাচনে জামায়াতের একক কৌশল, ঘোষণা ১২ মেয়র প্রার্থী
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই: হাসনাত আব্দুল্লাহ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

মত প্রকাশের স্বাধীনতা নয়, দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, ত্রয়োদশ সংসদ গঠনের পর মত প্রকাশের কারণে মানুষকে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার মতো অন্তত নয়টি ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি মত দমন, ক্যাম্পাস অস্থিরতা, পুলিশ সংস্কার এবং মানবাধিকার কমিশন নিয়েও উদ্বেগ তুলে ধরেন।

হাসনাত বলেন, “মত প্রকাশের স্বাধীনতা আগেও ছিল, কিন্তু সেটা ছিল সহমত প্রকাশের স্বাধীনতা। আমরা এখন দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই।” তার ভাষায়, এই সংসদ অনেক ত্যাগ ও প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে গঠিত হলেও আবার দোষারোপ, মামলাবাজি ও দমনের পুরোনো চক্রে ফেরার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে কার্টুন ও স্যাটায়ার শেয়ার করলেও মাঠপর্যায়ে সমালোচনার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে। “প্রতিমন্ত্রী বা হুইপকে সমালোচনা করলে বাসা থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে”, এমন অভিযোগও করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তার বক্তব্য, আবারও বাধ্যতামূলক রাজনীতি, গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতি ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু নেতা তৈরির জায়গা নয়, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হওয়া উচিত।

পুলিশ সংস্কার অর্ডিন্যান্স ও মানবাধিকার কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত বলেন, সৎ উদ্দেশ্য থাকলে এসব উদ্যোগ সংসদে পাস করিয়ে পরে সংশোধন করা যেত। “মানবাধিকার কমিশনকে ল্যাপস করে দেওয়া হয়েছে”, বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যে তিনি সংসদ সদস্যদের জনগণের বাস্তবতা বোঝার আহ্বানও জানান। “এসি রুমে বসে, এসি গাড়িতে চড়ে জনগণের সমস্যা বোঝা যায় না”, মন্তব্য করে তিনি বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বুঝে রাজনীতি করতে হবে।

হাসনাতের বক্তব্যে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তিনি বিভাজন বা নির্মূলের রাজনীতির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। তার ভাষায়, দমন-পীড়নের রাজনীতি কারও জন্য লাভজনক হবে না, বরং তা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সংসদে তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপ্রকাশের পরিসর, বিরোধী কণ্ঠের অবস্থান এবং সংস্কার বিতর্ককে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বনানীতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদকসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ

দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই: হাসনাত আব্দুল্লাহ

আপডেট সময় ০২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

মত প্রকাশের স্বাধীনতা নয়, দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, ত্রয়োদশ সংসদ গঠনের পর মত প্রকাশের কারণে মানুষকে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার মতো অন্তত নয়টি ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি মত দমন, ক্যাম্পাস অস্থিরতা, পুলিশ সংস্কার এবং মানবাধিকার কমিশন নিয়েও উদ্বেগ তুলে ধরেন।

হাসনাত বলেন, “মত প্রকাশের স্বাধীনতা আগেও ছিল, কিন্তু সেটা ছিল সহমত প্রকাশের স্বাধীনতা। আমরা এখন দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই।” তার ভাষায়, এই সংসদ অনেক ত্যাগ ও প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে গঠিত হলেও আবার দোষারোপ, মামলাবাজি ও দমনের পুরোনো চক্রে ফেরার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে কার্টুন ও স্যাটায়ার শেয়ার করলেও মাঠপর্যায়ে সমালোচনার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে। “প্রতিমন্ত্রী বা হুইপকে সমালোচনা করলে বাসা থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে”, এমন অভিযোগও করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তার বক্তব্য, আবারও বাধ্যতামূলক রাজনীতি, গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতি ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু নেতা তৈরির জায়গা নয়, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হওয়া উচিত।

পুলিশ সংস্কার অর্ডিন্যান্স ও মানবাধিকার কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত বলেন, সৎ উদ্দেশ্য থাকলে এসব উদ্যোগ সংসদে পাস করিয়ে পরে সংশোধন করা যেত। “মানবাধিকার কমিশনকে ল্যাপস করে দেওয়া হয়েছে”, বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যে তিনি সংসদ সদস্যদের জনগণের বাস্তবতা বোঝার আহ্বানও জানান। “এসি রুমে বসে, এসি গাড়িতে চড়ে জনগণের সমস্যা বোঝা যায় না”, মন্তব্য করে তিনি বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বুঝে রাজনীতি করতে হবে।

হাসনাতের বক্তব্যে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তিনি বিভাজন বা নির্মূলের রাজনীতির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। তার ভাষায়, দমন-পীড়নের রাজনীতি কারও জন্য লাভজনক হবে না, বরং তা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সংসদে তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপ্রকাশের পরিসর, বিরোধী কণ্ঠের অবস্থান এবং সংস্কার বিতর্ককে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।