ঢাকা , সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

খামেনির মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে প্রধান করে ইরানে অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠন

সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর রাষ্ট্র পরিচালনায় অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে ইরান। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়। ওই দিনই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু খামেনি নিহত হওয়ার দাবি জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই তথ্য নিশ্চিত করেন। রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে ইরান সরকারিভাবে খামেনির মৃত্যুর কথা স্বীকার করে।

ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই এবং প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলর একজন জ্যেষ্ঠ আলেম। এই তিন সদস্য সম্মিলিতভাবে সাময়িকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।

ইরানের ১৯৭৯ সালের সংবিধানের ১১১ নম্বর ধারায় বলা আছে, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মৃত্যুবরণ করলে বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ দেশ পরিচালনা করবে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, বর্তমান পরিষদের মূল লক্ষ্য প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।

দেশটির শাসনতান্ত্রিক কাঠামোয় ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে। এই পরিষদের সদস্যদের প্রার্থিতা যাচাই করে গার্ডিয়ান কাউন্সিল। প্রয়োজনে একক নেতার পরিবর্তে নেতৃত্ব পরিষদ গঠনের ক্ষমতাও তাদের রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরও জানিয়েছে, খামেনির সঙ্গে তার মেয়ে, জামাতা ও নাতিও হামলায় নিহত হয়েছেন। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্থায়ী নেতৃত্ব কাঠামো ইরানে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের সময়সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি ও মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ধরে রাখাই এখন তেহরানের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খামেনির মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে প্রধান করে ইরানে অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠন

আপডেট সময় ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর রাষ্ট্র পরিচালনায় অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে ইরান। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়। ওই দিনই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু খামেনি নিহত হওয়ার দাবি জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই তথ্য নিশ্চিত করেন। রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে ইরান সরকারিভাবে খামেনির মৃত্যুর কথা স্বীকার করে।

ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই এবং প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলর একজন জ্যেষ্ঠ আলেম। এই তিন সদস্য সম্মিলিতভাবে সাময়িকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।

ইরানের ১৯৭৯ সালের সংবিধানের ১১১ নম্বর ধারায় বলা আছে, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মৃত্যুবরণ করলে বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ দেশ পরিচালনা করবে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, বর্তমান পরিষদের মূল লক্ষ্য প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।

দেশটির শাসনতান্ত্রিক কাঠামোয় ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে। এই পরিষদের সদস্যদের প্রার্থিতা যাচাই করে গার্ডিয়ান কাউন্সিল। প্রয়োজনে একক নেতার পরিবর্তে নেতৃত্ব পরিষদ গঠনের ক্ষমতাও তাদের রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরও জানিয়েছে, খামেনির সঙ্গে তার মেয়ে, জামাতা ও নাতিও হামলায় নিহত হয়েছেন। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্থায়ী নেতৃত্ব কাঠামো ইরানে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের সময়সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি ও মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ধরে রাখাই এখন তেহরানের প্রধান চ্যালেঞ্জ।