মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির হালনাগাদ তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। সংস্থাটি বলছে, চার দিন ধরে চলা হামলায় হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
এএফপি জানিয়েছে, রেড ক্রিসেন্টের মাঠপর্যায়ের দলগুলোর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে হতাহতের তথ্য স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেও উল্লেখ করেছে তারা। সংস্থার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইরানের ১৫৩টি শহর এবং ৫০০টিরও বেশি স্থানে এক হাজারের বেশি হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানে মঙ্গলবার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তেহরানের পশ্চিমে কারাজ এবং মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানেও বিস্ফোরণের খবর দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৭৬ জন শিশুসহ ৭৪২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগাঁও দাবি করেছে, সংঘাতের তৃতীয় দিনেই নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। তাদের তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন বেসামরিক এবং ১ হাজার ৩০০ জন ইরানি বাহিনীর সদস্য।
ইরানি পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্য ফাতেমেহ মোহাম্মদবেগি সোমবার বলেন, “ইরানের নয়টি হাসপাতালে হামলা হয়েছে। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।” তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ দাবি করেছে, “হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।” ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ তুলেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হতাহতের সর্বশেষ সংখ্যা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও নাজুক হয়ে উঠতে পারে।
পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শনিবার সকালে এই যৌথ হামলা শুরু হয়। তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, পরমাণু শক্তি অর্জন তাদের অধিকার এবং তা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই।

পেট্রোল পাম্পে পুলিশ মোতায়েন চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি
আর্ন্তজাতিক ডেস্ক 


















