ঢাকা , সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলা, সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সাম্প্রতিক একাধিক আত্মঘাতী হামলার জেরে আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে পরিচালিত এই অভিযানে জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে ইসলামাবাদের দাবি। তবে হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক হতাহতের খবরও পাওয়া গেছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সীমান্তবর্তী পাকতিকা ও নানগারহার প্রদেশে এসব হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। আফগান তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রয়টার্স জানায়, মন্তব্যের জন্য কাবুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক সাড়া মেলেনি।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তান, টিটিপি ও তাদের সহযোগীদের সাতটি ক্যাম্প ও গোপন আস্তানায় অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ, আইএস কেপি সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইসলামাবাদসহ বাজাউর ও বান্নু জেলায় সাম্প্রতিক হামলাগুলো আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্বের নির্দেশনায় হয়েছে, এমন অকাট্য প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। পাকিস্তান আরও বলেছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যাতে হামলা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে তালেবান সরকারকে বারবার আহ্বান জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

আল জাজিরার সূত্রের দাবি, পাকতিকা প্রদেশে একটি ধর্মীয় বিদ্যালয়ে ড্রোন হামলা হয়েছে। নানগারহারেও একাধিক স্থানে আঘাত হানা হয়। এএফপি জানায়, নানগারহারের বিহসুদ জেলায় একটি বাড়িতে হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ জনই শিশু ও কিশোর। নারী ও শিশুসহ কয়েক ডজন মানুষ হতাহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

হামলার প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা আরও বেড়েছে দুই দেশের মধ্যে। গত অক্টোবর সীমান্ত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৭০ জনের বেশি নিহত হওয়ার পর এটি সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা বলে জানিয়েছে এএফপি। প্রায় ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে কয়েক মাস ধরেই টানাপোড়েন চলছে।

এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকায় খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে জোহরের নামাজের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলায় বহু মুসল্লি নিহত হন। ইসলামিক স্টেট হামলার দায় স্বীকার করে। বাজাউর ও বান্নুতেও আত্মঘাতী হামলায় সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব হামলার পরই আফগানিস্তানের ভেতরে সামরিক অভিযান চালায় পাকিস্তান।

আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, পাকিস্তান নিজেদের নিরাপত্তা দুর্বলতা ঢাকতে এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে। যদিও পাকিস্তান বরাবরই অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভেতর থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে।

আল জাজিরা, রয়টার্স ও এএফপি জানায়, এই পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ও যাতায়াতও বিঘ্নিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলা, সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা

আপডেট সময় ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সাম্প্রতিক একাধিক আত্মঘাতী হামলার জেরে আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে পরিচালিত এই অভিযানে জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে ইসলামাবাদের দাবি। তবে হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক হতাহতের খবরও পাওয়া গেছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সীমান্তবর্তী পাকতিকা ও নানগারহার প্রদেশে এসব হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। আফগান তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রয়টার্স জানায়, মন্তব্যের জন্য কাবুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক সাড়া মেলেনি।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তান, টিটিপি ও তাদের সহযোগীদের সাতটি ক্যাম্প ও গোপন আস্তানায় অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ, আইএস কেপি সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইসলামাবাদসহ বাজাউর ও বান্নু জেলায় সাম্প্রতিক হামলাগুলো আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্বের নির্দেশনায় হয়েছে, এমন অকাট্য প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। পাকিস্তান আরও বলেছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যাতে হামলা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে তালেবান সরকারকে বারবার আহ্বান জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

আল জাজিরার সূত্রের দাবি, পাকতিকা প্রদেশে একটি ধর্মীয় বিদ্যালয়ে ড্রোন হামলা হয়েছে। নানগারহারেও একাধিক স্থানে আঘাত হানা হয়। এএফপি জানায়, নানগারহারের বিহসুদ জেলায় একটি বাড়িতে হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ জনই শিশু ও কিশোর। নারী ও শিশুসহ কয়েক ডজন মানুষ হতাহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

হামলার প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা আরও বেড়েছে দুই দেশের মধ্যে। গত অক্টোবর সীমান্ত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৭০ জনের বেশি নিহত হওয়ার পর এটি সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা বলে জানিয়েছে এএফপি। প্রায় ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে কয়েক মাস ধরেই টানাপোড়েন চলছে।

এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকায় খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে জোহরের নামাজের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলায় বহু মুসল্লি নিহত হন। ইসলামিক স্টেট হামলার দায় স্বীকার করে। বাজাউর ও বান্নুতেও আত্মঘাতী হামলায় সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব হামলার পরই আফগানিস্তানের ভেতরে সামরিক অভিযান চালায় পাকিস্তান।

আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, পাকিস্তান নিজেদের নিরাপত্তা দুর্বলতা ঢাকতে এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে। যদিও পাকিস্তান বরাবরই অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভেতর থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে।

আল জাজিরা, রয়টার্স ও এএফপি জানায়, এই পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ও যাতায়াতও বিঘ্নিত হচ্ছে।