ঢাকা , মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ভোক্তাদের স্বস্তি, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হ্রাস Logo তিন মাসে ৩১ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে খেলাপি ঋণ, উদ্বিগ্ন ব্যাংকিং খাত Logo দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের ক্ষমতায়নেই আগামী বাজেটের প্রধান গুরুত্ব: অর্থমন্ত্রী Logo কোস্ট গার্ডের অভিযানে চট্টগ্রাম থেকে ১৪শ’ লিটার জ্বালানি তেল আটক Logo চলতি বছরেও সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করার আশঙ্কা Logo ফরিদপুরে ডিবি পুলিশের অভিযান: হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি আটক Logo সিলেটে পুলিশের অভিযানে এক মাসে ১৬৬৫ জন গ্রেফতার Logo তোফায়েল আহমেদের মরদেহ ভোলায় পৌঁছেছে, হাজারো মানুষের শ্রদ্ধায় শেষ বিদায় Logo সিলেটে হাম উপসর্গে এবার নার্সের মৃত্যু : হাসপাতালে ভর্তি ৭৮ জন Logo ভাঙ্গায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় নিহত ৫
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

চলতি বছরেও সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করার আশঙ্কা

দেশে এবারও ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কারণ ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য যে মাত্রায় এডিস মশার ঘনত্ব থাকা দরকার, তার থেকেও বেশি রয়েছে। পরিস্থিতি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। সেজন্য বিজ্ঞানভিত্তিক সমন্বিত মশকনিধন কার্যক্রম এখনোই চালানো জরুরি। যদিও সারাবছরই ডেঙ্গুজ্বরে কমবেশি আক্রান্ত হয় মানুষ। তবে তুলনামূলকভাবে বছরের প্রথম ছয় মাস ডেঙ্গুর প্রকোপ কম থাকে। কিন্তু জুন থেকে শুরু হয় ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। আর বছরের বাকি সময় ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার ভয়াবহ তাণ্ডব চলে। গত কয়েক বছরে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলাতেও অনেক বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১২ মে পর্যন্ত ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে জানুয়ারিতে দুজন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন এবং মে মাসে একজন। আর ওই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে দুই হাজার ৭৫৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার মধ্যে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন এবং মে মাসের ১২ দিনে ২৭১ জন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বেশ জোরেশোরেই মাঠে নেমেছে। তবে ঢাকার বাইরে ওই কার্যক্রম খুব একটা দৃশ্যমান নয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রত্যেক মাসের প্রথম শনিবারকে ক্লিনিং ডে হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাছাড়া ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রথমবারের মতো লার্ভার অবস্থা বুঝতে সম্প্রতি বিশেষ জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিডিসি তাতে সহযোগিতা করছে। জরিপ শেষে এডিশ লার্ভার ঘনত্ব বুঝে কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া পরিবেশ উন্নয়ন, বায়ুদূষণ হ্রাস, ডেঙ্গুমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিটি ভবনের আঙিনা পরিষ্কার রাখা ও সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচ্ছন্ন আঙিনা কর্মসূচি বাস্তবায়নে অঞ্চলভিত্তিক তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারণ সরকার ধরেই নিয়েছে এবার ডেঙ্গু বাড়তে পারে। সে জন্য আগে থেকেই বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে গত বছর দেশে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলো এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন। তার মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার ৩১ হাজার ৬৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। যা সারা দেশে ভর্তি রোগীর ৩০ দশমিক ৮০ শতাংশ। বাকি ৭৯ দশমিক ২৪ শতাংশ ঢাকার বাইরের। সারা দেশে ভর্তি রোগীর মাত্র ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ রাজধানীর বাসিন্দা ছিলো। বাকি ৯৩ দশমিক ৬১ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীই ঢাকার বাইরের ছিলো। গত বছর আট জেলায় দুই হাজার থেকে ১০ হাজারের মধ্যে রোগী ভর্তি হয়। দেড় থেকে দুই হাজারের মধ্যে চার জেলায়। আর এক থেকে দেড় হাজারের মধ্যে সাত জেলায় এবং পাঁচশ থেকে এক হাজারের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ১২ জেলায়। জেলাভিত্তিক বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়। রোগীর সংখ্যা ডয়লো ৯ হাজার ৫৩৪ জন। তারপর পর্যায়ক্রমে বেশি ভর্তি হয়েছে গাজীপুরে; চার হাজার ৭৫৪ জন, চট্টগ্রামে চার হাজার ৭২৯ জন, পটুয়াখালীতে চার হাজার ৫৯৩ জন, বরিশালে চার হাজার ৫৩ জন,  ময়মনসিংহে তিন হাজার ৭ জন, কুমিল্লায় তিন হাজার, মানিকগঞ্জে দুই হাজার ৪১৩ জন, নারায়ণগঞ্জে এক হাজার ৯২৮ জন, চাঁদপুরে এক হাজার ৮৬৭ জন, পিরোজপুরে এক হাজার ৭৬৩ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক হাজার ৭১৫ জন, কক্সবাজারে এক হাজার ৭০৫ জন, কিশোরগঞ্জে এক হাজার ৩৭০ জন, নরসিংদীতে এক হাজার ৩৫৪ জন, রাজশাহীতে এক হাজার ৩০৯ জন, টাঙ্গাইলে এক হাজার ২৯৮ জন, যশোরে এক হাজার ২৮২ জন, মাদারীপুরে এক হাজার ২৬৩ জন, খুলনায় এক হাজার ১৯৬ জন, সিরাজগঞ্জে ৯২৬ জন, ফেনীতে ৮৫৫ জন, ঢাকা জেলায় ৮২৮ জন, ভোলায় ৮১০ জন, ঝালকাঠিতে ৭৯৪ জন, বান্দরবানে ৭৬৩ জন, জামালপুরে ৭৪৮ জন, বগুড়ায় ৬৭৩ জন, কুষ্টিয়ায় ৬৩০ জন, পাবনায় ৬০৪ জন, লক্ষ্ণীপুরে ৫৭৭ জন,  ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ৫৬০ জন। মূলত বছরের শেষ ছয় মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকে। জুন থেকে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয় হয়ে নভেম্বরে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

সূত্র আরো জানায়, দেশে বিগত ২০১৯ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল। ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি হয় এক লাখ এক হাজার ৩৭৪ জন। ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া ২৬৩ জনের মৃত্যু পর্যালোচনা করে আইইডিসিআর ১৬৪ জনের ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু নিশ্চিত করে। ২০২০ সালে করোনার কারণে ডেঙ্গুর দিকে নজর ছিলো না। তবে ২০২১ সালে হাসপাতালে ভর্তি হয় ২৮ হাজার ৪২৯ জন আর ১০৫ জনের মৃত্যু হয়। ২০২২ সালে ৬২ হাজার ৩৮২ জন ভর্তি হয় আর মৃত্যু হয় ২৮১ জনের। ২০২৩ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিত আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আগে কখনোই ওই বছরের মতো এতো আক্রান্ত বা মৃত্যু হয়নি। ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি হয় তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন আর এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। তবে ২০২৪ সালে ২০২৩ সালের তুলনায় হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যু কমে আসে। যদিও মৃত্যুর দিক থেকে তা ২০১৯, ২০২১ ও ২০২২ ওই তিন বছরের চেয়েও বেশি ছিলো। ২০২৪ সালে হাসপাতালে ভর্তি হয় এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন আর মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। ২০২৫ সালে ভর্তি হয় এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন আর ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর বিপরীতে ২০১৯ থেকে ২৩ সাল পর্যন্ত মৃত্যু বাড়ে। তবে ২৪-২৫ সালে কিছুটা কমেছিলো। ২০১৯ সালে ৬১৮ জন ভর্তি রোগীর মধ্যে গড়ে একজনের মৃত্যু হয়, ২০২১ সালে ২৭০ জনে একজন, ২০২২ সালে ২২২ জনে একজন, ২০২৩ সালে ১৮৮ জনে একজন, ২০২৪ সালে ২৩৪ জনে একজন ও ২০২৫ সালে ২৪৯ জনে একজনের মৃত্যু হয়।

এদিকে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ভিডিওবার্তা দিয়ে প্রতিটি এলাকার সংসদ সদস্যসহ সর্বনস্তরের জনপ্রতিনিধিদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যেক সপ্তাহের শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনানুযায়ী গত ১৪ মার্চ শনিবার থেকে সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। কিন্তু দুই সপ্তাহ পর তার তেমন ধারাবাহিকতা থাকতে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন জানান, এডিস মশার লার্ভা কোথায় বেশি রয়েছে তা বুঝতে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রথমবারের মতো বিশেষ জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১২ দিনব্যাপী জরিপ শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। তাতে কোন ওয়ার্ড বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, কোনটি মধ্যম ঝুঁকিতে এবং কোন এলাকাগুলো তুলনামূলক স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে তা চিহ্নিত করা হবে। তারপর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আরো কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমরা আশা করা যায় এ উদ্যোগ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। ডিএসসিসির মূল লক্ষ্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। শুধু ওষুধ প্রয়োগ করলেই হবে না, মানুষকে সচেতন করাটাও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে বলেন, হামের টিকার ব্যবস্থা হলেও এখন সামনে ডেঙ্গু, পোলিও, হান্টাসহ অনেক রোগ চোখ রাঙাচ্ছে। সেগুলো মোকাবিলা করা এখন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। ডেঙ্গুর চিকিৎসায় প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন ফিল্ড হাসপাতাল প্র্সতুত রয়েছে। প্রয়োজনে ওই সংখ্যা বাড়ানো হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোক্তাদের স্বস্তি, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হ্রাস

চলতি বছরেও সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করার আশঙ্কা

আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে

দেশে এবারও ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কারণ ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য যে মাত্রায় এডিস মশার ঘনত্ব থাকা দরকার, তার থেকেও বেশি রয়েছে। পরিস্থিতি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। সেজন্য বিজ্ঞানভিত্তিক সমন্বিত মশকনিধন কার্যক্রম এখনোই চালানো জরুরি। যদিও সারাবছরই ডেঙ্গুজ্বরে কমবেশি আক্রান্ত হয় মানুষ। তবে তুলনামূলকভাবে বছরের প্রথম ছয় মাস ডেঙ্গুর প্রকোপ কম থাকে। কিন্তু জুন থেকে শুরু হয় ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। আর বছরের বাকি সময় ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার ভয়াবহ তাণ্ডব চলে। গত কয়েক বছরে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলাতেও অনেক বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১২ মে পর্যন্ত ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে জানুয়ারিতে দুজন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন এবং মে মাসে একজন। আর ওই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে দুই হাজার ৭৫৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার মধ্যে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন এবং মে মাসের ১২ দিনে ২৭১ জন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বেশ জোরেশোরেই মাঠে নেমেছে। তবে ঢাকার বাইরে ওই কার্যক্রম খুব একটা দৃশ্যমান নয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রত্যেক মাসের প্রথম শনিবারকে ক্লিনিং ডে হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাছাড়া ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রথমবারের মতো লার্ভার অবস্থা বুঝতে সম্প্রতি বিশেষ জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিডিসি তাতে সহযোগিতা করছে। জরিপ শেষে এডিশ লার্ভার ঘনত্ব বুঝে কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া পরিবেশ উন্নয়ন, বায়ুদূষণ হ্রাস, ডেঙ্গুমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিটি ভবনের আঙিনা পরিষ্কার রাখা ও সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচ্ছন্ন আঙিনা কর্মসূচি বাস্তবায়নে অঞ্চলভিত্তিক তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারণ সরকার ধরেই নিয়েছে এবার ডেঙ্গু বাড়তে পারে। সে জন্য আগে থেকেই বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে গত বছর দেশে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলো এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন। তার মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার ৩১ হাজার ৬৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। যা সারা দেশে ভর্তি রোগীর ৩০ দশমিক ৮০ শতাংশ। বাকি ৭৯ দশমিক ২৪ শতাংশ ঢাকার বাইরের। সারা দেশে ভর্তি রোগীর মাত্র ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ রাজধানীর বাসিন্দা ছিলো। বাকি ৯৩ দশমিক ৬১ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীই ঢাকার বাইরের ছিলো। গত বছর আট জেলায় দুই হাজার থেকে ১০ হাজারের মধ্যে রোগী ভর্তি হয়। দেড় থেকে দুই হাজারের মধ্যে চার জেলায়। আর এক থেকে দেড় হাজারের মধ্যে সাত জেলায় এবং পাঁচশ থেকে এক হাজারের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ১২ জেলায়। জেলাভিত্তিক বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়। রোগীর সংখ্যা ডয়লো ৯ হাজার ৫৩৪ জন। তারপর পর্যায়ক্রমে বেশি ভর্তি হয়েছে গাজীপুরে; চার হাজার ৭৫৪ জন, চট্টগ্রামে চার হাজার ৭২৯ জন, পটুয়াখালীতে চার হাজার ৫৯৩ জন, বরিশালে চার হাজার ৫৩ জন,  ময়মনসিংহে তিন হাজার ৭ জন, কুমিল্লায় তিন হাজার, মানিকগঞ্জে দুই হাজার ৪১৩ জন, নারায়ণগঞ্জে এক হাজার ৯২৮ জন, চাঁদপুরে এক হাজার ৮৬৭ জন, পিরোজপুরে এক হাজার ৭৬৩ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক হাজার ৭১৫ জন, কক্সবাজারে এক হাজার ৭০৫ জন, কিশোরগঞ্জে এক হাজার ৩৭০ জন, নরসিংদীতে এক হাজার ৩৫৪ জন, রাজশাহীতে এক হাজার ৩০৯ জন, টাঙ্গাইলে এক হাজার ২৯৮ জন, যশোরে এক হাজার ২৮২ জন, মাদারীপুরে এক হাজার ২৬৩ জন, খুলনায় এক হাজার ১৯৬ জন, সিরাজগঞ্জে ৯২৬ জন, ফেনীতে ৮৫৫ জন, ঢাকা জেলায় ৮২৮ জন, ভোলায় ৮১০ জন, ঝালকাঠিতে ৭৯৪ জন, বান্দরবানে ৭৬৩ জন, জামালপুরে ৭৪৮ জন, বগুড়ায় ৬৭৩ জন, কুষ্টিয়ায় ৬৩০ জন, পাবনায় ৬০৪ জন, লক্ষ্ণীপুরে ৫৭৭ জন,  ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ৫৬০ জন। মূলত বছরের শেষ ছয় মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকে। জুন থেকে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয় হয়ে নভেম্বরে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

সূত্র আরো জানায়, দেশে বিগত ২০১৯ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল। ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি হয় এক লাখ এক হাজার ৩৭৪ জন। ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া ২৬৩ জনের মৃত্যু পর্যালোচনা করে আইইডিসিআর ১৬৪ জনের ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু নিশ্চিত করে। ২০২০ সালে করোনার কারণে ডেঙ্গুর দিকে নজর ছিলো না। তবে ২০২১ সালে হাসপাতালে ভর্তি হয় ২৮ হাজার ৪২৯ জন আর ১০৫ জনের মৃত্যু হয়। ২০২২ সালে ৬২ হাজার ৩৮২ জন ভর্তি হয় আর মৃত্যু হয় ২৮১ জনের। ২০২৩ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিত আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আগে কখনোই ওই বছরের মতো এতো আক্রান্ত বা মৃত্যু হয়নি। ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি হয় তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন আর এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। তবে ২০২৪ সালে ২০২৩ সালের তুলনায় হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যু কমে আসে। যদিও মৃত্যুর দিক থেকে তা ২০১৯, ২০২১ ও ২০২২ ওই তিন বছরের চেয়েও বেশি ছিলো। ২০২৪ সালে হাসপাতালে ভর্তি হয় এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন আর মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। ২০২৫ সালে ভর্তি হয় এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন আর ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর বিপরীতে ২০১৯ থেকে ২৩ সাল পর্যন্ত মৃত্যু বাড়ে। তবে ২৪-২৫ সালে কিছুটা কমেছিলো। ২০১৯ সালে ৬১৮ জন ভর্তি রোগীর মধ্যে গড়ে একজনের মৃত্যু হয়, ২০২১ সালে ২৭০ জনে একজন, ২০২২ সালে ২২২ জনে একজন, ২০২৩ সালে ১৮৮ জনে একজন, ২০২৪ সালে ২৩৪ জনে একজন ও ২০২৫ সালে ২৪৯ জনে একজনের মৃত্যু হয়।

এদিকে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ভিডিওবার্তা দিয়ে প্রতিটি এলাকার সংসদ সদস্যসহ সর্বনস্তরের জনপ্রতিনিধিদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যেক সপ্তাহের শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনানুযায়ী গত ১৪ মার্চ শনিবার থেকে সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। কিন্তু দুই সপ্তাহ পর তার তেমন ধারাবাহিকতা থাকতে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন জানান, এডিস মশার লার্ভা কোথায় বেশি রয়েছে তা বুঝতে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রথমবারের মতো বিশেষ জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১২ দিনব্যাপী জরিপ শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। তাতে কোন ওয়ার্ড বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, কোনটি মধ্যম ঝুঁকিতে এবং কোন এলাকাগুলো তুলনামূলক স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে তা চিহ্নিত করা হবে। তারপর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আরো কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমরা আশা করা যায় এ উদ্যোগ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। ডিএসসিসির মূল লক্ষ্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। শুধু ওষুধ প্রয়োগ করলেই হবে না, মানুষকে সচেতন করাটাও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে বলেন, হামের টিকার ব্যবস্থা হলেও এখন সামনে ডেঙ্গু, পোলিও, হান্টাসহ অনেক রোগ চোখ রাঙাচ্ছে। সেগুলো মোকাবিলা করা এখন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। ডেঙ্গুর চিকিৎসায় প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন ফিল্ড হাসপাতাল প্র্সতুত রয়েছে। প্রয়োজনে ওই সংখ্যা বাড়ানো হবে।