ঢাকা , বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মাসের পরের অংশে ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি ভয়াবহ কালবৈশাখী আঘাত আনতে পারে Logo পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ২,০২৮ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প নিয়েছে সরকার Logo গ্রীষ্মের দাবদাহে আরাম দেবে ঠান্ডা ডাব-কফির শেক Logo দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো আবার সচল হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে Logo ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম-এ আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন Logo প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে চলছে একনেকের বৈঠক Logo উচ্ছেদের কিছুদিন পরই ফের দখলে চলে যাচ্ছে ফুটপাত, থামছে না হকারদের Logo সিলেটে আলোচিত শিশু ফাহিমা হত্যার রোহমর্ষক বর্ণনা দিলো হত্যাকারী চাচা জাকির Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে শিশুদের মাদক থেকে বিরত রাখা জরুরি Logo খুলনা অঞ্চলে বোরো ফসল ঘরে তুলতে পুরোদমে চলছে কৃষকদের
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

হান্টাভাইরাস আক্রান্ত প্রমোদতরী এখন নেদারল্যান্ডসের পথে, যাত্রীরা ফিরে যাচ্ছেন নিজ দেশে

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের কবলে পড়া প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’ শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর মঙ্গলবার জাহাজটি বন্দর ত্যাগ করে। এদিকে, উদ্ধারকৃত যাত্রীদের মধ্যে অন্তত সাতজনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

আর্জেন্টিনা থেকে আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার পথে জাহাজটিতে বিরল এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ানো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য আতঙ্ক তৈরি করে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং বিভিন্ন দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জীবিতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সাতজনের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া আরও একজনকে ‘সম্ভাব্য আক্রান্ত’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্ত এক নারীকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে, তবে তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট টিকা বা চিকিৎসা নেই। তবে এটি ‘কোভিড-১৯’-এর মতো মহামারি নয় এবং সাধারণ মানুষের জন্য এর ঝুঁকি বেশ কম।

ডাচ পতাকাবাহী এই জাহাজটি আগামী রোববার সন্ধ্যায় রটারডাম বন্দরে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সেখানে পৌঁছানোর পর পুরো জাহাজটিতে জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রম চালানো হবে। বর্তমানে জাহাজটিতে ২৫ জনের বেশি ক্রু ও চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন। এছাড়া যাত্রাপথে প্রাণ হারানো এক জার্মান নাগরিকের মরদেহও জাহাজে রয়েছে। তবে সব যাত্রী ইতোমধ্যেই জাহাজ ত্যাগ করেছেন।

স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া গোমেজ তেনেরিফের বন্দরে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘অভিযান সফল হয়েছে।’

তিনি জানান, গত দুই দিনে ২৩টি দেশের ১২৫ জন যাত্রী ও ক্রুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা ইতোমধ্যেই নিজ দেশে ফিরেছেন অথবা ফেরার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় জাহাজটি নোঙর তুলে বন্দর ত্যাগ করে।

উদ্ধারকৃতদের শেষ দলটি চার্টার বাসে করে তেনেরিফ সাউথ বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং সেখান থেকে দুটি ফ্লাইটে মঙ্গলবার ভোরে নেদারল্যান্ডসে নামেন। এদের মধ্যে ১৭ জন ফিলিপিনো ক্রুসহ ডাচ, জার্মান ও ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। বাকি যাত্রীদের নিজ দেশে ফেরার আগে বিমানবন্দরের কাছের একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হয়েছে।

সাদা রঙের সুরক্ষামূলক পোশাক ও মাস্ক পরে যাত্রীরা বিমান থেকে নামেন। ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস মঙ্গলবার মাদ্রিদে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে। তিনি যাত্রীদের আশ্বস্ত করে বলেন, তারা এখন নিরাপদে রয়েছেন। তবে জাহাজেই অবস্থান করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত।

ফ্রান্স ও স্পেন উভয় দেশই তাদের নাগরিকদের মধ্যে সংক্রমণের খবর নিশ্চিত করেছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু জানান, আইসোলেশনে থাকা পাঁচ ফরাসি নাগরিকের মধ্যে এক নারী এবং স্পেনের ১৩ জন নাগরিকের মধ্যে একজন আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে, সংক্রমণের উৎস নিয়ে কিছুটা বিতর্ক দেখা দিয়েছে। জাহাজটি গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে রওনা হয়েছিল, যেখানে হান্টাভাইরাস একটি স্থানীয় সমস্যা। ডব্লিউএইচও মনে করছে, যাত্রা শুরুর আগেই প্রথম সংক্রমণটি ঘটেছিল এবং পরে জাহাজে তা মানুষের মাধ্যমে ছড়িয়েছে। তবে আর্জেন্টিনার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাসের পরের অংশে ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি ভয়াবহ কালবৈশাখী আঘাত আনতে পারে

হান্টাভাইরাস আক্রান্ত প্রমোদতরী এখন নেদারল্যান্ডসের পথে, যাত্রীরা ফিরে যাচ্ছেন নিজ দেশে

আপডেট সময় ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের কবলে পড়া প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’ শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর মঙ্গলবার জাহাজটি বন্দর ত্যাগ করে। এদিকে, উদ্ধারকৃত যাত্রীদের মধ্যে অন্তত সাতজনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

আর্জেন্টিনা থেকে আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার পথে জাহাজটিতে বিরল এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ানো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য আতঙ্ক তৈরি করে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং বিভিন্ন দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জীবিতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সাতজনের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া আরও একজনকে ‘সম্ভাব্য আক্রান্ত’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্ত এক নারীকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে, তবে তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট টিকা বা চিকিৎসা নেই। তবে এটি ‘কোভিড-১৯’-এর মতো মহামারি নয় এবং সাধারণ মানুষের জন্য এর ঝুঁকি বেশ কম।

ডাচ পতাকাবাহী এই জাহাজটি আগামী রোববার সন্ধ্যায় রটারডাম বন্দরে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সেখানে পৌঁছানোর পর পুরো জাহাজটিতে জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রম চালানো হবে। বর্তমানে জাহাজটিতে ২৫ জনের বেশি ক্রু ও চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন। এছাড়া যাত্রাপথে প্রাণ হারানো এক জার্মান নাগরিকের মরদেহও জাহাজে রয়েছে। তবে সব যাত্রী ইতোমধ্যেই জাহাজ ত্যাগ করেছেন।

স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া গোমেজ তেনেরিফের বন্দরে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘অভিযান সফল হয়েছে।’

তিনি জানান, গত দুই দিনে ২৩টি দেশের ১২৫ জন যাত্রী ও ক্রুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা ইতোমধ্যেই নিজ দেশে ফিরেছেন অথবা ফেরার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় জাহাজটি নোঙর তুলে বন্দর ত্যাগ করে।

উদ্ধারকৃতদের শেষ দলটি চার্টার বাসে করে তেনেরিফ সাউথ বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং সেখান থেকে দুটি ফ্লাইটে মঙ্গলবার ভোরে নেদারল্যান্ডসে নামেন। এদের মধ্যে ১৭ জন ফিলিপিনো ক্রুসহ ডাচ, জার্মান ও ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। বাকি যাত্রীদের নিজ দেশে ফেরার আগে বিমানবন্দরের কাছের একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হয়েছে।

সাদা রঙের সুরক্ষামূলক পোশাক ও মাস্ক পরে যাত্রীরা বিমান থেকে নামেন। ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস মঙ্গলবার মাদ্রিদে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে। তিনি যাত্রীদের আশ্বস্ত করে বলেন, তারা এখন নিরাপদে রয়েছেন। তবে জাহাজেই অবস্থান করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত।

ফ্রান্স ও স্পেন উভয় দেশই তাদের নাগরিকদের মধ্যে সংক্রমণের খবর নিশ্চিত করেছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু জানান, আইসোলেশনে থাকা পাঁচ ফরাসি নাগরিকের মধ্যে এক নারী এবং স্পেনের ১৩ জন নাগরিকের মধ্যে একজন আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে, সংক্রমণের উৎস নিয়ে কিছুটা বিতর্ক দেখা দিয়েছে। জাহাজটি গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে রওনা হয়েছিল, যেখানে হান্টাভাইরাস একটি স্থানীয় সমস্যা। ডব্লিউএইচও মনে করছে, যাত্রা শুরুর আগেই প্রথম সংক্রমণটি ঘটেছিল এবং পরে জাহাজে তা মানুষের মাধ্যমে ছড়িয়েছে। তবে আর্জেন্টিনার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।