ঢাকা , রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা সফল হবে না: রিজভী

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে কৌশলে মুছে ফেলার যেকোনো চেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের বার্তা বহন করবে, কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ এ দেশের মানুষের রক্তের ইতিহাস। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের ত্যাগ ভুলে যাওয়ার নয়।” তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা নতুন কিছু নয়, তবে জনগণ এবং নতুন প্রজন্ম তা প্রতিহত করবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ বর্তমান নানা সংকট কাটিয়ে উঠবে। তার ভাষায়, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খননের মতো উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

নবগঠিত জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম সংগঠনকে সামনে রেখে রিজভী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও তরুণদের কাছে পৌঁছে দিতে এই প্ল্যাটফর্ম ভূমিকা রাখবে। “মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরিরাই এই চেতনা বহন করবে”, বলেন তিনি।

জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক প্রভাবজনিত সংকট উল্লেখ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান। রুফটপ সোলার প্যানেলের ওপর কর কমিয়ে মানুষকে উৎসাহিত করার পরামর্শও দেন তিনি।

স্বাস্থ্যখাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিরোধযোগ্য রোগে যেন আর শিশুমৃত্যু না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে। “মন্ত্রীদেরও সবসময় সতর্ক থাকতে হবে”, বলেন তিনি।

গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, “অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি।” তার মতে, রাজনৈতিক সংকট বা মতভেদের সমাধানও আলোচনার পথেই হওয়া উচিত।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাতসহ দলীয় নেতারা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা সফল হবে না: রিজভী

আপডেট সময় ৫ ঘন্টা আগে

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে কৌশলে মুছে ফেলার যেকোনো চেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের বার্তা বহন করবে, কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ এ দেশের মানুষের রক্তের ইতিহাস। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের ত্যাগ ভুলে যাওয়ার নয়।” তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা নতুন কিছু নয়, তবে জনগণ এবং নতুন প্রজন্ম তা প্রতিহত করবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ বর্তমান নানা সংকট কাটিয়ে উঠবে। তার ভাষায়, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খননের মতো উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

নবগঠিত জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম সংগঠনকে সামনে রেখে রিজভী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও তরুণদের কাছে পৌঁছে দিতে এই প্ল্যাটফর্ম ভূমিকা রাখবে। “মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরিরাই এই চেতনা বহন করবে”, বলেন তিনি।

জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক প্রভাবজনিত সংকট উল্লেখ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান। রুফটপ সোলার প্যানেলের ওপর কর কমিয়ে মানুষকে উৎসাহিত করার পরামর্শও দেন তিনি।

স্বাস্থ্যখাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিরোধযোগ্য রোগে যেন আর শিশুমৃত্যু না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে। “মন্ত্রীদেরও সবসময় সতর্ক থাকতে হবে”, বলেন তিনি।

গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, “অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি।” তার মতে, রাজনৈতিক সংকট বা মতভেদের সমাধানও আলোচনার পথেই হওয়া উচিত।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাতসহ দলীয় নেতারা।