ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শুরু হলো ‘সুপারম্যান: ম্যান অব টুমরো’-এর শুটিং Logo বাস ও মিনিবাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়ল ১১ পয়সা Logo গ্রামে মারাত্মক লোডশেডিং হচ্ছে, মন্ত্রীদের আরও তৎপর হতে হবে: রিজভী Logo দেশে দ্বিতীয় তেল শোধনাগার না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে: সেনাপ্রধান Logo পাকিস্তানে তামা ও স্বর্ণ খনি প্রকল্পে সশস্ত্র হামলা, নিহত ১০ Logo রাজনৈতিক দলের কোনো সদস্য হবেন না: খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo রাজধানীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ঈদের দিনেও ঝোড়ো বৃষ্টির পূর্বাভাস Logo বিশ্বকাপ নয়, আমরা যুক্তরাষ্ট্র বয়কট করব : ইরান ফুটবল প্রধান Logo পদ্মা সেতুতে একদিনে টোল আদায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা Logo ফরিদপুরে প্রজন্ম বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞপ্তি :
গৌরবময় ৩৫ বছর! মাসিক অবাক পৃথিবী পত্রিকার ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অগণিত পাঠক ও লেখককে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

দেশে দ্বিতীয় তেল শোধনাগার না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে: সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) আয়োজিত ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, জ্বালানি নিরাপত্তা এখন একটি বড় ইস্যু। স্বাধীনতার ৫৪-৫৫ বছরেও দ্বিতীয় রিফাইনারি গড়ে না ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের ভাষায়, “বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। অথচ স্বাধীনতার এত বছর পার হয়ে গেলেও আমরা দেশে দ্বিতীয় কোনো তেল শোধনাগার স্থাপন করতে পারিনি, যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

জ্বালানি খাতের বর্তমান সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে সেনাপ্রধান জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে একটি মাত্র তেল শোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি’ রয়েছে। এই একক প্রতিষ্ঠানটি দেশের মোট চাহিদার মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জ্বালানি শোধন করতে সক্ষম।

ফলে চাহিদার সিংহভাগ জ্বালানি আমাদের বিদেশ থেকে পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করতে হয়। এতে আমদানিব্যয় যেমন অনেক বেড়ে যায়, তেমনি পরনির্ভরশীলতাও কাটে না। একটি নতুন রিফাইনারি তৈরি করা সম্ভব হলে খরচ কমানোর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও টেকসই হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের এই বিশেষ কোর্সে সংসদ সদস্য, উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেই যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

সমাপনী বক্তব্যে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এনডিসি ভবিষ্যতে এ ধরনের কোর্সের সংখ্যা আরও বাড়াবে এবং অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ফেলোরা তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, এই কোর্সটি তাদের কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা জোরদার করতে সাহায্য করেছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে এনডিসি-র এই আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করার জন্য সকল অংশগ্রহণকারীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

এ সময় তিনি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করতে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, জ্বালানি খাতের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে আত্মনির্ভরশীল হতে পারলে বহিঃবিশ্বের অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা বাংলাদেশের জন্য অনেক সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে এনডিসি-র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সামরিক-বেসামরিক আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারি পর্যায়ে দ্বিতীয় রিফাইনারি নির্মাণের প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হলে তা দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরণের মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। জাতীয় নিরাপত্তাকে কেবলমাত্র ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সক্ষমতায় রূপান্তর করাই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ৫ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিন সপ্তাহব্যাপী ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’ এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাপস্টোন কোর্স ফেলোদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

এই কোর্সে মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন। যাদের মধ্যে ছিলেন সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধি।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অব্যাহত সংলাপ ও ঐকমত্য গঠনে গুরুত্ব আরোপ করেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

শুরু হলো ‘সুপারম্যান: ম্যান অব টুমরো’-এর শুটিং

দেশে দ্বিতীয় তেল শোধনাগার না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে: সেনাপ্রধান

আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) আয়োজিত ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, জ্বালানি নিরাপত্তা এখন একটি বড় ইস্যু। স্বাধীনতার ৫৪-৫৫ বছরেও দ্বিতীয় রিফাইনারি গড়ে না ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের ভাষায়, “বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। অথচ স্বাধীনতার এত বছর পার হয়ে গেলেও আমরা দেশে দ্বিতীয় কোনো তেল শোধনাগার স্থাপন করতে পারিনি, যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

জ্বালানি খাতের বর্তমান সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে সেনাপ্রধান জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে একটি মাত্র তেল শোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি’ রয়েছে। এই একক প্রতিষ্ঠানটি দেশের মোট চাহিদার মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জ্বালানি শোধন করতে সক্ষম।

ফলে চাহিদার সিংহভাগ জ্বালানি আমাদের বিদেশ থেকে পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করতে হয়। এতে আমদানিব্যয় যেমন অনেক বেড়ে যায়, তেমনি পরনির্ভরশীলতাও কাটে না। একটি নতুন রিফাইনারি তৈরি করা সম্ভব হলে খরচ কমানোর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও টেকসই হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের এই বিশেষ কোর্সে সংসদ সদস্য, উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেই যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

সমাপনী বক্তব্যে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এনডিসি ভবিষ্যতে এ ধরনের কোর্সের সংখ্যা আরও বাড়াবে এবং অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ফেলোরা তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, এই কোর্সটি তাদের কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা জোরদার করতে সাহায্য করেছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে এনডিসি-র এই আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করার জন্য সকল অংশগ্রহণকারীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

এ সময় তিনি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করতে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, জ্বালানি খাতের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে আত্মনির্ভরশীল হতে পারলে বহিঃবিশ্বের অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা বাংলাদেশের জন্য অনেক সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে এনডিসি-র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সামরিক-বেসামরিক আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারি পর্যায়ে দ্বিতীয় রিফাইনারি নির্মাণের প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হলে তা দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরণের মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। জাতীয় নিরাপত্তাকে কেবলমাত্র ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সক্ষমতায় রূপান্তর করাই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ৫ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিন সপ্তাহব্যাপী ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’ এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাপস্টোন কোর্স ফেলোদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

এই কোর্সে মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন। যাদের মধ্যে ছিলেন সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধি।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অব্যাহত সংলাপ ও ঐকমত্য গঠনে গুরুত্ব আরোপ করেন।