• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • জলাভূমি হ্রাস বন্যার ভয়াবহতা বাড়িয়ে দিচ্ছে: আইপিডি 

     obak 
    25th Jun 2022 6:41 am  |  অনলাইন সংস্করণ

    নিউজ ডেস্ক:বিগত ৩২ বছরে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলার হাওড় অঞ্চলের শুষ্ক মৌসুমের জলাভূমির পরিমাণ কমেছে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগেরও বেশি। ফলে হাওড় এলাকায় মৌসুমী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট পানি ধারণ করার প্রাকৃতিক ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাবার কারণে এ এলাকায় নিয়মিতভাবে বন্যা দেখা যাচ্ছে। দেশের সিলেট-সুনামগঞ্জসহ উত্তরপূর্বাঞ্চলের অতি সাম্প্রতিক বন্যায় ভয়াবহতা ও ব্যাপকতার পেছনে অতিবৃষ্টির পাশাপাশি হাওড় এলাকার জলাভূমি বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার দায় রয়েছে অনেক। হাওর এলাকার বর্তমান জলাভূমিকে বাঁচানোর যথাযথ উদ্যোগ ও হাওর এলাকার হাওড়-বাঁওড়, খাল-বিল, নদী-নালা সমূহের প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ ও পানিধারণ ক্ষমতাকে বাড়ানো না গেলে আগামী দিনগুলোতেও বন্যার ভয়াবহতা থেকে জীবন-জীবিকা ও প্রাণ-প্রকৃতিকে রক্ষা করা যাবে না।

    শুক্রবার (২৪ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ইনস্টিটিউড ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) আয়োজিত ’হাওড় এলাকার ভূমি ব্যবহারের কয়েক দশকের পরিবর্তন ও এবারের ব্যাপকতা’ ‘হাওর এলাকার ভূমি ব্যবহারের কয়েক দশকের পরিবর্তন ও এবারের বন্যার ব্যাপকতাঃ গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন ও সংশ্লিষ্ট আলোচনা’ শীর্ষক আইপিডি বাংলাদেশ সংলাপে এ পর্যবেক্ষণ ও মতামত উঠে এসেছে।

    বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাকিল আকতারের তত্ত্বাবধানে ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) এর সহযোগিতায় হাওড় এলাকার ১৯৮৮ থেকে ২০২০ সালের শুষ্ক মৌসুমের জলাভূমি এলাকার ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন সম্পর্কিত এ গবেষণাটি করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও পরিকল্পনাবিদ ইনজামামউল হক রিফাত। যার গবেষণাকালের ব্যাপ্তি ছিল ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২২ সালের জুন। এটি গবেষকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের গবেষণার অংশও ছিল। গবেষণায় ১৯৮৮, ১৯৯৪, ২০০৬, ২০১৩ ও ২০২০ সালের স্যাটেলাইট ইমেজ ক্লাসিফিকেশনের মাধ্যমে তথ্য- উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়।

    ‘আইপিডি বাংলাদেশ সংলাপে’ গবেষণাটির সারাংশ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউড ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। এ গবেষণার সূত্র ধরে অধ্যাপক আদিল বলেন, ১৯৮৮ সালকে ভিত্তি ধরে হাওর এলাকার জলাভূমি ১৯৮৮ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ৪০ ভাগ কমে যায় এবং ২০০৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আরও ৩৭ ভাগ কমে গিয়ে এখন প্রায় ১৩ ভাগ এলাকা অবশিষ্ট আছে। এর বিপরীতে হাওড় এলাকায় নির্মিত এলাকা (বিল্ট আপ এরিয়া) ২০০৬ সালে ২ দশমিক ২ গুণ ও ২০২০ সালে ৩ দশমিক ৮ গুণ বৃদ্ধি পায়।

    পাশাপাশি হাওড় এলাকায় পতিত জমি, কৃষি জমি ও বনজ এলাকাও আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাওড় অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মধ্যে ১৯৮৮ সালের তুলনায় ২০২০ সালে শুষ্ক মৌসুমের জলাভূমির পরিমাণ সিলেটে ৭৫ ভাগ, সুনামগঞ্জে প্রায় ৮০ ভাগ, নেত্রকোনায় প্রায় ৯০ ভাগ, কিশোরগঞ্জে প্রায় ৮৫ ভাগ, ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় প্রায় ৭০ ভাগ, হবিগঞ্জে প্রায় ৯০ ভাগ এবং মৌলভীবাজারে প্রায় ৭০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে।

    অধ্যাপক আদিল বলেন, ১৯৮৮ সাল থেকে হাওড়ের শুষ্ক মৌসুমের জলাভূমির পরিমাণ প্রায় ৫ ভাগের ১ ভাগ হ্রাস পায় এবং বাকি ৪ ভাগ জমিতে বসত-বাড়ি, সড়কসহ বিভিন্ন ধরনের নির্মিত এলাকা তৈরি হবার কারণে (বিল্ট আপ এরিয়া) ধূসর অবকাঠামোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। হাওড় এলাকার উল্লেখযোগ্যভাবে জলাভূমি ধ্বংস হয় ২০০০ থেকে ২০০৬ ও ২০০৬ থেকে ২০১৩ সময়কালে।

    জলাভূমির পরিবর্তন জীববৈচিত্র্যে তাৎপর্যমূলক প্রভাব ফেলছে, যা উপেক্ষা করে জলবায়ু পরিবর্তন ও বন্যার প্রভাব মোকাবেলা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করে তিনি।

    আইপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, পূর্ববর্তী বছরগুলো থেকে বর্তমানে বন্যার ভয়াবহতা আরও বেশি হওয়ার কারণ অতিবৃষ্টি-নদী-নালার নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি জলাভূমির ভরাট করে বাড়িঘর ও বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ। ২০১২ সালে হাওড় এলাকার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন হবার পর এ ধ্বংসের পরিমাণ কিছুটা কমতে থাকে।

    তিনি আরও বলেন, হাওড় এলাকা রক্ষা ও প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা এবং মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যথাযথ তদারকির মাধ্যমে হাওড় অঞ্চল কিছুটা হলেও রক্ষা করা সম্ভব।

    সারা বাংলাদেশের হাওড় এলাকার ভূমি রক্ষা করা ছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে বন্যা ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভবপর নয় উল্লেখ করেন তিনি।

    স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণে নানাবিধ চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করেই এ গবেষণা সম্পন্ন করা হয়েছে উল্লেখ করে পরিকল্পনাবিদ ইনজামামউল হক রিফাত বলেন, হাওড় এলাকার জলাভূমি আশঙ্কাজনক পরিবর্তন এখনই রোধ না করা গেলে এ এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি বন্যার আশঙ্কা আরও ব্যাপকতর হবে।

    তিনি বলেন, এবারের বন্যার জন্য দায়ী আন্তঃদেশীয় নদীর অতিরিক্ত পানির প্রবল চাপ, পলি জমাটের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা সংকট ও নদী-জলাশয়ের পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়া। আমাদের উৎকন্ঠার জায়গা হচ্ছে হাওড় এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম টেকসই হচ্ছে কি না।

    ভৌগোলিক স্বাতন্ত্র্য থাকার কারণে হাওড় এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ-প্রতিবেশকে গুরুত্ব দেবার আহবান জানান এ পরিকল্পনাবিদ।

    চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, হাওড় অঞ্চলের বর্তমান আয়তন যাতে আর ১ শতাংশও না কমে তার জন্য ডিজিটাল মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে একটি নির্দিষ্ট সময়কাল পরপর ইমেজ অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে এর পরিবর্তন বুঝা যায় এবং সে অনুসারে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে। হাওড় এলাকার মহাপরিকল্পনা, সরকারি আইন এবং বিধিবিধানের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের হাওড় অঞ্চল সংরক্ষণে সচেষ্ট হতে হবে।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও পরিকল্পনাবিদ ফরহাদুর রেজা বলেন, এবারের বন্যার কারণ যদিও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সর্বোচ্চ কতটুকু বৃষ্টি হতে পারে তার একটা সম্ভাব্য প্রজেকশন ও হাওড় এলাকার জলধারণ করার সক্ষমতা জানা থাকলে, এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্যোগ মোকাবিলা আমাদের জন্য সহজতর হবে। হাওড় অঞ্চলের জন্য সেখানে কতটুকু রোড দরকার, ডিমান্ড অ্যানালাইসিস এবং ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে ইনট্রিগ্রেটেড পদ্ধতিতে মাস্টার প্ল্যান তৈরির করে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সেখানকার জীবনমানের উন্নয়ন সম্ভব।  সূত্র: সময় টিভি

    We use all content from others website just for demo purpose. We suggest to remove all content after building your demo website. And Dont copy our content without our permission.
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    Jugantor Logo
    ফজর ৪:২৭
    জোহর ১২:০৫
    আসর ৪:২৯
    মাগরিব ৬:২০
    ইশা ৭:৩৫
    সূর্যাস্ত: ৬:২০ সূর্যোদয় : ৫:৪২

    আর্কাইভ

    June 2022
    M T W T F S S
     12345
    6789101112
    13141516171819
    20212223242526
    27282930