• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • বিমানবন্দর দিয়ে ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডি আনা হলেও স্ক্যানিংয়ে ধরা পড়ছে না 

     obak 
    31st May 2022 12:47 pm  |  অনলাইন সংস্করণ

    নিউজ ডেস্ক:দেশের বিমানবন্দরগুলোর স্ক্যানিংয়ে ভয়ঙ্কর মাদক লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড (এলএসডি) ধরা পড়ছে না। আর এ সুযোগে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকে বিমানবন্দর দিয়ে অবাধে ওই ভয়ঙ্কর মাদক দেশে প্রবেশ করছে। বিগত ২০১৯ সালে মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ওই মাদক প্রথমবারের উদ্ধার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। তারপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কয়েকটি চালান উদ্ধার করেছে। আর ওসব মাদক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ঢুকেছে। এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত মাদকের মধ্যে এলএসডি সবচেয়ে শক্তিশালী। ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওই মাদক এদেশে আসছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
    সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ভয়ংকর মাদক এলএসডি স্ক্যানিংয়ে ধরা পড়ছে না। আর এ সুযোগে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী চক্র। তারা অবাধেই নিয়ে আসছে এলএসডি এবং অনলাইন প্ল্যাটফরম ব্যবহার বিক্রি করা হচ্ছে। যা মাদক উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
    সূত্র জানায়, ছোট স্ট্রিকারের মতো স্ট্রিপ বা নকশা করা কাগজে থাকে এলএসডি মাদক। যা ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসছে। বেশির ভাগ সময়েই তা বই বা নোটবুকে ঢুকিয়ে আনা হচ্ছে। তাছাড়া কুরিয়ারেও আসছে। উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই মূলত এদেশে এলএসডির মূল গ্রাহক। আর সেবনকারীদের বড় অংশই পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়ও সম্পৃক্ত হয়েছে। পারিবারিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে থাকা মানুষের সন্তানরাই বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় এলএসডি নিয়ে আসছে। বর্তমানে দেশে এলএসডির যে চালানগুলো ঢুকছে তার বেশির ভাগই তাদের মাধ্যমে আসছে। আর ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে বিক্রি হচ্ছে এলএসডি। ওই অ্যাপগুলোয় ব্যবহার হচ্ছে বিদেশি সিম নম্বর। যার নিবন্ধনও দেশের বাইরের। আর ওই অ্যাপ ব্যবহার করা মোবাইল ফোনগুলোয় ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হচ্ছে অন্য ফোনের হটস্পটের মাধ্যমে। ফলে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করেও তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।
    সূত্র আরো জানায়, ভয়ঙ্কর মাদকএলএসডি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ সামান্য একটা কাগজে এটা এমনভাবে বহন করা হয় যা সাধারণভাবে বোঝার সুযোগ থাকে না। আর বিমানবন্দরের স্ক্যানিংয়েও ধরা না পড়ায় দুশ্চিন্তা আরো বেড়েছে। কীভাবে ওই মাদক শনাক্ত হবে তা নিয়ে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো ভাবছে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু ওয়েবসাইটের ওপর নজরদারিতেই এলএসডি শনাক্ত প্রক্রিয়া অনেকটা সীমাবদ্ধ রয়েছে। ওই সুযোগে ডার্ক ওয়েবেও চলছে বেচাকেনা। আর তাতে মুদ্রা হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে বিটকয়েন।
    এদিকে দেশে এলএসডির প্রবেশমুখ বিমানবন্দরের স্ক্যানিং ব্যবস্থা নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। একবার স্ক্যানিং মেশিন বিকল হলে তা মেরামতে এক থেকে দুই মাস লেগে যায়। একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় একটি চক্র ওই সুযোগে মাদকসহ নানা অবৈধ পণ্য পাচার করে। দুর্বল নিরাপত্তা ও স্ক্যানিংয়ের অভিযোগে ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ গোটা ইউরোপ বাংলাদেশ থেকে আকাশ ও নৌপথে পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। পরবর্তীতে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতায় ও সরকারের প্রচেষ্টায় এই নিষেধাজ্ঞা ওঠানো হয়। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)দেশের বিমানবন্দরে অডিট অভিযান করেছে। এমন অবস্থায় স্ক্যানিং ব্যবস্থাকে আরো কঠোর নজরদারির আওতায় আনা জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছে।
    অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে ঢাকা কাস্টম হাউজের উপকমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির জানান, বিদেশ ফেরত যাত্রীদের সবাইকে স্ক্যানিংয়ের মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হয় না। সব যাত্রীকে স্ক্যানিংয়ের আওতায় আনলে ২-৩ ঘণ্টা, কখনো তারও বেশি সময় লেগে যাবে। যাত্রীর তুলনায় বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত দুর্বলতা আছে। অন্যান্য দেশে লাগেজগুলো সব স্ক্যানিং হয়ে আসে। কিন্তু এদেশে তা ম্যানুয়ালি করতে হয়। ফলে যেহেতু সবাইকে স্ক্যান করা হয় না, তাই মাদক আনার সুযোগ থাকতেই পারে। পাশাপাশি কুরিয়ার শিপমেন্টের ক্ষেত্রে সব যাচাই করা হয় না। যেগুলো হয় সেখানেও সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া খুঁজে বের করা কঠিন। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে এলএসডি শনাক্তের প্রক্রিয়া জানানো হলে তা শনাক্তে কাস্টমসের জন্য সহজ হবে। বর্তমানে স্ক্যানিংয়ে স্বর্ণ, মুদ্রা বা সিগারেট শনাক্ত করা গেলেও এলএসডি মাদক শনাক্ত করা কঠিন।
    এ বিষয়ে পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশনস) কুসুম দেওয়ান জানান, ধরন ও আকারের দিক থেকে এলএসডি অন্য মাদকের চেয়ে আলাদা। সেজন্য এয়ারপোর্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল কুরিয়ার সার্ভিসের চেকিং প্রক্রিয়ায় জড়িতদের এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকা জরুরি। পাশাপাশি যেসব দেশ থেকে ওই মাদক আসছে, তাদের চেকিং ব্যবস্থায়ও ঘাটতি রয়েছে। তা না হলে সেগুলো বহন করে নিয়ে আসা সম্ভব হতো না। সেজন্য দেশের বিমানবন্দরের পাশাপাশি পুরো স্ক্যানিং ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

    We use all content from others website just for demo purpose. We suggest to remove all content after building your demo website. And Dont copy our content without our permission.
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৪:২৭
    জোহর ১২:০৫
    আসর ৪:২৯
    মাগরিব ৬:২০
    ইশা ৭:৩৫
    সূর্যাস্ত: ৬:২০ সূর্যোদয় : ৫:৪২

    আর্কাইভ

    May 2022
    M T W T F S S
     1
    2345678
    9101112131415
    16171819202122
    23242526272829
    3031