বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে—নতুন সড়ক, ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে একের পর এক নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতার নির্মম চিত্র হলো, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে যানজট যেন দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে যে সড়ক অবকাঠামো গড়ে উঠছে, সেগুলোর মাঝেই প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে লাখো মানুষের জীবন।
ভোরে কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হওয়া মানুষ জানে না ঠিক কখন গন্তব্যে পৌঁছাবে। কখনো দুই ঘণ্টার পথ চার ঘণ্টায় পাড়ি দিতে হয়। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী—সবাই যেন এক অদৃশ্য স্থবিরতার মধ্যে আটকে আছে। যানজট শুধু সময় নষ্ট করছে না; এটি মানুষের কর্মক্ষমতা কমাচ্ছে, অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়াচ্ছে এবং নগরজীবনের মানকে ক্রমেই অসহনীয় করে তুলছে।
যানজটের পেছনে রয়েছে বহুদিনের অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ। শহরের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়লেও সেই অনুপাতে সড়ক অবকাঠামো বাড়েনি। একই সড়কে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও রিকশা একসঙ্গে চলাচল করে, ফলে যান চলাচলের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত দখল, এলোমেলো বাসস্টপেজ এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের সংস্কৃতি।
নগর পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির অভাবও এই সংকটকে তীব্র করেছে। উন্নত বিশ্বের শহরগুলোতে যেখানে গণপরিবহনকে কেন্দ্র করে নগর পরিকল্পনা করা হয়, সেখানে আমাদের শহরগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। ফলে সড়কের ওপর চাপ বাড়ছে দিন দিন।
সরকার ইতোমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে, যেমন ঢাকা মেট্রো রেল এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। এসব প্রকল্প নিঃসন্দেহে নগর পরিবহন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে কেবল বড় অবকাঠামো নির্মাণই সমস্যার একমাত্র সমাধান নয়। প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা, শৃঙ্খলাপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থা, কঠোর ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং পথচারীবান্ধব নগর উন্নয়ন।
যানজট কোনো সাধারণ সমস্যা নয়; এটি একটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট। প্রতিদিন যে সময়, জ্বালানি ও শ্রম নষ্ট হচ্ছে, তার মূল্য শেষ পর্যন্ত পুরো জাতিকেই দিতে হচ্ছে। তাই এখনই সময় সমস্যাটিকে সামগ্রিকভাবে দেখার এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।
উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের শহরগুলো যেন স্থবিরতার প্রতীক না হয়ে ওঠে—এটাই সময়ের দাবি।

ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া রোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
মোঃ মাসুম আহমেদ 

















